আনুষ্ঠানিকভাবে বাজাজাত কার্যক্রম শুরু হলো ঐতিহ্যবাহী জিআই পণ্য হাঁড়িভাঙ্গা আমের। সোমবার (১৫ জুন) দুপুর দেড় টায় রংপুরের মিঠাপুকুর এর পদাগঞ্জে বাগানে হাড়িভাংগাআম ছিড়ে উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন। এ সময় তার সাথে ছিলেন কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম, ইউএনও মোহাম্মদ রাসেল, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম রব্বানী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান হেকিম, কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা একেএম রাকিবুল হাসান ফেরদৌসসহ স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত নেতৃবৃন্দ ছাড়াও কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। পরে তিনি পদাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হাড়িভাঙ্গা আমি চাষী ও ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। পরে তিনি হাড়িভাঙ্গা আমের রাজধানী পদাগঞ্জ হাট পরিদর্শন করেন এবং কৃষক এবং ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেন।
এ সময় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বাজারজাতে রাস্তাঘাটের সমস্যা, ব্যাংক সুবিধা না থাকা, হাটের সেড, ওয়াশ ফেসিলিটি, তৈরি, হিমাগার স্থাপন, এবং জি আই পণ্য হিসেবে বিদেশী রপ্তানির করার সুযোগ সৃষ্টি দাবি তুলে ধরেন ডিসির কাছে। এ সময় জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন বলেন, জেলা প্রশাসকের অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে হাড়িভাঙ্গা আমের রপ্তানি, অবকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তাঘাটের সংস্কার ও নির্মাণ, ওয়াস ব্লক তৈরি, ব্যাংকের শাখা স্থাপন, ম্যাংগো ট্রেনের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রথম দিনে বিপুল পরিমাণে হাড়িভাঙ্গার আমদানি দেখা যায় পদাগঞ্জের হাটে। তবে দুপুর বারোটা পর্যন্ত বৃষ্টির কারণে খুব একটা বেচা বিক্রি জমেনি। উদ্বোধনের পর শুরু হয় বেচা বিক্রি। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ১৪০০ থেকে ১৮শ টাকার মধ্যে মন বিক্রি হচ্ছে আমের। এবার শিলা বৃষ্টিতে হাড়িভাঙ্গা ঝরে যাওয়ায় ফলন কমে গেছে ৩০ ভাগ। তাই দাম বৃদ্ধি না হলে লোকসানের মুখে পড়বেন তারা। রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সিরাজুল ইসলাম জানান, এবার যেহেতু আমের ফলন একটুখানি কম হয়েছে। তবে আকার বড় হয়েছে। সে কারণে এবার ন্যায্য দাম পাবে কৃষকরা। শুরুর দিকে সামান্য দাম কম হলেও প্রতিদিনই আমের দাম বাড়বে বলেও আশা করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।