বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, জুলাই সনদ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের নিষ্পত্তি সংসদে চায় জামায়াত, না হলে রাজপথে ফয়সালা হবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে জনগণের দাবি তুলে ধরতেই এ বিভাগীয় সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে। আগামী ২০ জুন খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে খুলনায় জামায়াতে ইসলামীর ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। পরে আগামী ২১ জুন ১১ দলের জরুরী বৈঠক থেকে পরবর্তী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলা ১২ টায় দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে ১১ দলীয় স্থানীয় নেতাদের উপস্তিতিতে জরুরি প্রেসব্রিফিং এ তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আগামী ২০ জুন নগরীর ঐতিহাসিক সার্কিট হাউস ময়দানে শনিবার বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা করছেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে গোলাম পরওয়ার জানান, ২০ জুন দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভাষন দিবেন সরকারের বিরোধীদলীয় প্রধান ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সোবহানী, আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-এর সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন।
তিনি আরও বলেন, খুলনা বিভাগের ১০ জেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী মিছিল ও বহর নিয়ে সমাবেশস্থলে যোগ দেবেন। ফলে সার্কিট হাউস ময়দান ছাড়াও আশপাশের সড়কগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হবে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে নগরীতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, সমাবেশে লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি ঘটবে এবং এটি খুলনা বিভাগের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক সমাবেশে পরিণত হবে। তারা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন যাতে সমাবেশ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা যায়। সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত নেতারা সমাবেশ সফল করতে খুলনা বিভাগের সর্বস্তরের জনগণকে দলে দলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।