কিশোরগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে গণজাগরণ

জনতার অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো মাদকের আস্তানা

এফএনএস (আমিনুল হক সাদি; কিশোরগঞ্জ) : | প্রকাশ: ১৯ জুন, ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
জনতার অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো মাদকের আস্তানা

কিশোরগঞ্জ জেলা সদরের যশোদল মধ্যপাড়া, রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন এলাকা ও আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে কথিত মাদক কারবার ও মাদকসেবনের অভিযোগে পরিচিত কয়েকটি স্থানের বিরুদ্ধে এবার গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (জুমার নামাজের পর) এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হয়ে মাদকবিরোধী কর্মসূচি পালন করেন। এতে সিদ্ধিশ্বরী জামে মসজিদের মুসল্লি, স্থানীয় বাসিন্দা, ছাত্রসমাজ, যুবসমাজ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন এলাকা, রেললাইনের পাশ এবং যশোদল মধ্যপাড়ার কয়েকটি স্থানে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের অভিযোগ ছিল। এলাকাবাসীর দাবি, বহুবার অভিযোগ জানানো হলেও কিছু অসাধু ব্যক্তি বারবার সেখানে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছিল। এতে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে শত শত মানুষ মাদকবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেন। পরে তারা কয়েকটি কথিত মাদকের আস্তানা ভেঙে ফেলেন। স্থানীয়দের দাবি, কিছু পরিত্যক্ত ও অস্থায়ী স্থাপনায় আগুনও দেওয়া হয়, যাতে ভবিষ্যতে সেগুলো পুনরায় মাদকের আড্ডা হিসেবে ব্যবহার করা না যায়।

অভিযান চলাকালে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মাদকবিরোধী নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। উপস্থিত জনতা বলেন, “মাদক আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে। যশোদল মধ্যপাড়া, রেলস্টেশন এলাকা কিংবা কিশোরগঞ্জের কোথাও আর মাদকের আস্তানা থাকতে দেওয়া হবে না। আমরা মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সবাই ঐক্যবদ্ধ।” খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহউদ্দিন ফারুকী। তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সাংবাদিকদের বলেন, “রেলওয়ের জায়গা কিংবা রেললাইনের আশপাশে কোনো অবস্থাতেই মাদকের আস্তানা গড়ে উঠতে দেওয়া হবে না। কেউ অবৈধভাবে দখল করে কিংবা মাদক কারবার পরিচালনা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এরপর কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি স্থানীয়দের শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, মাদকের কারণে দীর্ঘদিন ধরে যশোদল মধ্যপাড়া ও আশপাশের এলাকায় চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ বেড়ে যাচ্ছিল। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোরদের একটি অংশ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছিল। তাই মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে