সামান্য বৃষ্টিতেই ২ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ, সংস্কারের দাবি

এফএনএস (মোস্তাফিজার রহমান মিলন; হিলি, দিনাজপুর) : | প্রকাশ: ২১ জুন, ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম
সামান্য বৃষ্টিতেই ২ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ, সংস্কারের দাবি

সামান্য বৃষ্টিতেই চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার আলিহাট ইউনিয়নের ধাওয়ানশীপুর (ধাওয়া) ও কোকতাড়া গ্রামের শত শত মানুষকে। দুই গ্রামের মধ্যে চলাচলের একমাত্র সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে বর্ষা মৌসুম তো বটেই, হঠাৎ বৃষ্টি হলেও যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, ধাওয়ানশীপুর থেকে কোকতাড়া গ্রামের এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা ও খানাখন্দে ভরা। বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি কাদায় পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। ফলে মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল এমনকি পায়ে হেঁটেও চলাচল করা কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। জাতীয় কিংবা স্থানীয় নির্বাচন এলেই জনপ্রতিনিধিরা রাস্তা পাকাকরণের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্কুলগামী শিশু-কিশোররা স্কুলের পোশাক পরে কাদা মাড়িয়ে ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। ধান বোঝাই অটোরিকশা ও চার্জার ভ্যানগুলোকে গর্ত পার করতে কয়েকজন মিলে ধাক্কা দিতে হচ্ছে।

হিলি পৌর শহরের ছাতনী চৌমুহনী বাজার থেকে ধান নিতে আসা অটোচার্জার চালক মোবাশ্বের হোসেন বলেন, “মহাজনের ধান নিতে এসে বিপদে পড়েছি। একটা ধান বোঝাই গাড়ি ৪-৫ জন মিলে গর্ত পার করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ভাড়া অনুযায়ী কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।”

আরেক চালক রায়হান বলেন, “ধান নিতে এসে রাস্তায় চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে নিজেরাই অস্থায়ীভাবে রাস্তা সংস্কার করে ধান নিয়ে যাচ্ছি। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা প্রয়োজন।”

ধাওয়ানশীপুর থেকে কোকতাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়তে আসা শিক্ষার্থী আঞ্জুয়ারা খাতুন বলেন, “অনেক দিন ধরে রাস্তার এই অবস্থা। সামান্য বৃষ্টি হলেই স্কুলে যাওয়া খুব কষ্ট হয়। অনেক শিক্ষার্থী তখন স্কুলে আসে না।”

ছাতনী চৌমুহনী বাজারের ধান ব্যবসায়ী নূর মোহাম্মদ বলেন, “রাস্তাটির কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। দ্রুত সংস্কার হলে ভাড়া কম লাগত এবং কৃষকরাও তাদের ধানের ন্যায্যমূল্য পেতেন।” কোকতাড়া গ্রামের ধান বিক্রেতা জামান আলী বলেন, “শুধু ধান বিক্রি নয়, রাস্তার বেহাল দশার কারণে আমাদের গ্রামের ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দিতেও সমস্যা হয়। প্রতি মণ ধান প্রায় ১০০ টাকা কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তাই দ্রুত রাস্তার সংস্কার চাই।”

এ বিষয়ে হাকিমপুর উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. কামরুল হাসান বলেন, “এডিপি প্রকল্পের অর্থ থেকে ধাওয়া গ্রামের মাসুদের দোকান থেকে কোকতাড়া গ্রামের দিকে ৪১০ মিটার ইটের সলিং নির্মাণের টেন্ডার হয়েছে। খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে। এছাড়া ভবিষ্যতে ১০ ফুট প্রস্থে রাস্তাটি পাকাকরণের লক্ষ্যে এর আইডিকরণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।” অন্যদিকে আলিহাট ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দীপংকর শাহা রিপন বলেন, “বর্ষাকাল শুরু হওয়ায় দুই এক দিনের মধ্যে রাস্তাটিতে রাবিশ বা ইটের টুকরা ফেলে চলাচল উপযোগী করার ব্যবস্থা করা হবে।” আলিহাট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ইমরান আলী বলেন, “কোকতাড়া থেকে ধাওয়ানশীপুর সড়কে এডিপি প্রকল্পের আওতায় ইটের সলিং নির্মাণের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হবে।”

তবে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, যে কোনো প্রকল্পের অর্থায়নেই হোক না কেন, কোকতাড়া থেকে ধাওয়ানশীপুর পর্যন্ত পুরো সড়কটি দ্রুত পাকাকরণ বা ইটের সলিং করে স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হোক, যাতে বছরের সব সময় নির্বিঘ্নে চলাচল করা যায়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে