প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এরপর চীন সফর

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২১ জুন, ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এরপর চীন সফর

সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ মাসের মাথায় প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুই দিনের মালয়েশিয়া সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার ও আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। মালয়েশিয়া সফর শেষে তিনি সরাসরি চীন সফরে যাবেন।

রোববার (২২ জুন) বিকেল পৌনে ৩টায় প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি ২৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুর সাত্তার, বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়া ও চীনের রাষ্ট্রদূতসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তারেক রহমান। সেই দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর। সরকারের পক্ষ থেকে সফরটিকে অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন এবং প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা একেএম শামসুল ইসলাম।

শনিবার (২১ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, মালয়েশিয়া সফরে সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত দুটি দলিলে সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা এবং জনসংযোগের মতো খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হবে।

তিনি বলেন, “মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের অনুরোধ জানানো হবে। একই সঙ্গে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কল্যাণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে।”

পররাষ্ট্র সচিব আরও জানান, মালয়েশিয়ার বর্তমান আসিয়ান চেয়ারম্যানশিপকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের আসিয়ানের ‘ডায়ালগ পার্টনার’ এবং আরসিইপিতে যুক্ত হওয়ার আগ্রহও তুলে ধরা হবে। এ বিষয়ে কুয়ালালামপুরের সমর্থন চায় ঢাকা।

সফরের দ্বিতীয় ধাপে প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হবেন। চীন সফরকালে তিনি ২৩ থেকে ২৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’ বা সামার দাভোস ফোরামে অংশ নেবেন। সেখানে বিশ্বের ৯০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ১ হাজার ৭০০ প্রতিনিধি অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব জানান, চীন সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা এবং একটি প্রোটোকলসহ মোট ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপাক্ষিক দলিল সই হতে পারে। পাশাপাশি বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ২৬ জুন তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সরকারের আশা, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে