রিজার্ভ চুরির বিচার

দ্রুত সম্পন্ন হওয়া জরুরি

এফএনএস
| আপডেট: ২১ জুন, ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম | প্রকাশ: ২১ জুন, ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
দ্রুত সম্পন্ন হওয়া জরুরি

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি দেশের আর্থিক খাতের ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায়। ২০১৬ সালের এই ঘটনার প্রায় এক দশক পর অবশেষে সিআইডি দেড়শ পৃষ্ঠার খসড়া চার্জশিট প্রস্তুত করেছে এবং তা অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠিয়েছে। এতে দেশি-বিদেশি ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হয়েছে। দীর্ঘ বিলম্বের পরও এই অভিযোগপত্র মামলার প্রকৃত সত্য প্রকাশ্যে আনার পথ খুলে দিয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, সাবেক গভর্নরসহ বাংলাদেশের কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আরও উদ্বেগজনক হলো, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তদন্তে হস্তক্ষেপ করে অপরাধীদের নাম বাদ দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। সৎ তদন্ত কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়া এবং বদলি করার ঘটনাও ঘটেছে। একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ হ্যাক হয়ে যাবে, আর রাষ্ট্রযন্ত্রের শীর্ষ ব্যক্তিরা সেই অপরাধ আড়াল করতে উদ্যোগী হবেন- এর চেয়ে লজ্জাজনক কিছু হতে পারে না। তদন্তে নানা প্রতিবন্ধকতা, রাজনৈতিক চাপ ও আলামত ধ্বংসের পরও সিআইডি আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের সঙ্গে দেশি চক্রের যোগসূত্র চিহ্নিত করেছে। এটি প্রশংসনীয়। তবে এখনো চুরির ৬৬.৪ মিলিয়ন ডলার উদ্ধার হয়নি। জাতির প্রত্যাশা হলো, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় দ্রুত আইনি পরামর্শ সম্পন্ন করে চার্জশিট আদালতে পেশ করবে। আমাদের মতে, যারা জনগণের আমানত লুণ্ঠনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে এবং যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে এতদিন এই অপরাধ আড়াল করেছে, তাদের প্রত্যেককে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। বিচার প্রক্রিয়া যেন আর দীর্ঘায়িত না হয়, সেটিই আজ পুরো জাতির দাবি। এই মামলার সুষ্ঠু নিষ্পত্তি শুধু অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সততা ও জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য অপরিহার্য। আমাদের প্রত্যাশা, রিজার্ভ চুরির বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং দায়ীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। নইলে জাতির আস্থা ভেঙে পড়বে।