সাবেক এমপি মনিসহ ৪৪০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ২২ জুন, ২০২৬, ১১:১৬ এএম
সাবেক এমপি মনিসহ ৪৪০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

শ্রমিকদল নেতার বাড়িতে বোমা নিক্ষেপ করে অগ্নিসংযোগের ঘটনার তিন ঘন্টার মধ্যে বরিশালের বানারীপাড়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক এমপি মনিরুল ইসলাম মনি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বানারীপাড়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলাদ হোসেন সানাসহ ৪০জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারশ' জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামির তালিকায় উপজেলা বিএনপি সহ-সভাপতি সালেক মল্লিক শিমুলের নামও রয়েছে।

মামলার বাদি মো. রাসেল উপজেলার বাইশারী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক। পেশায় তিনি অটোরিক্সা চালক। এজাহারে মামলার বাদি উল্লেখ করেছেন, তাকে (রাসেল) স্ব-পরিবারে হত্যার উদ্দেশ্যে বাইশারী গ্রামে শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে আসামিরা বোমার বিস্ফোরন ঘটায়। এতে তার ঘরে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রনে এনেছে। তবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বানারীপাড়া ষ্টেশনের টিম লিডার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে গরদ্বার গ্রামে অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে সেখানে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়ার মধ্যে ফের খবর আসে আগুন নেভানো হয়েছে। তাই ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে যায়নি।

মামলার আাসামি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল ইসলাম মনি বলেন, পুরো ঘটনাটি সাজানো। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এজাহারের আসামি বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সালেক মল্লিক শিমুল বলেন, এ মামলার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছেন তাকে আসামি করা হয়েছে। বাদি রাসেলকেও তিনি চেনেন না। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাকে আসামি করা প্রসঙ্গে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহ আলম মিঞা বলেন, আমি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করবো না। ঘটনাটি আমি রবিবার (২১ জুন) জেনেছি।

তবে বাদি মো. রাসেলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানতে অসংখ্যবার যোগাযোগ করা হলেও তা বন্ধ থাকায় কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. একরামুল হক জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমা বিস্ফোরনের আলামত পাওয়া গেছে। এর বেশি কিছু বলতে তিনি অপরাগতা প্রকাশ করেছেন। বানারীপাড়া থানার ওসি মো. মজিবর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় আবদুল্লাহ ফকির নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মামলার অপর উল্লেখ্যযোগ্য আসামিরা হলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বানারীপাড়া উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকু, জিয়াউল হক মিন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত লাল কুন্ডু, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন উর রশিদ স্বপন, নুরুল হুদা, সদস্য আনিছুর রহমান মিলন, সাবেক কোষাধ্যক্ষ ফারুক সরদার, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম, বাইশারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্যামল চক্রবর্তী, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মো. মাহফুজুল হক মাসুম, সাবেক পৌর কাউন্সিলর জাকির হোসেন মোল্লা, মনির হোসেন, জাহিদ হোসেন সরদার, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফোরকান আলী হাওলাদার, সাবেক সহ-সভাপতি মনির বিশ্বাস, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সুমম রায় সুমন, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি মহসিন ফকির, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সিকদার, পৌর যুবলীগের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ্, সদস্য মশিউর রহমান সুমন, মো. সেলিম, জসিম মীর, মাসুম আকন, সোহাগ মাল, আতিকুল ইসলাম বাপ্পী, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি রাসেল মাল, বন্দর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী সুমন পোদ্দার, বাইশারী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল ফকির, ইউপি সদস্য শাহাদাত ফকির, সাবেক ইউপি সদস্য ও ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর বেপারী, সাবেক ইউপি সদস্য রিপন বড়াল, ইউপি সদস্য সাহেব আলী, বাইশারীর ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের, ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি কালাম বেপারী, সদস্য মো. ছৈয়দ, মো. ইমন, অলিন কৃষ্ণ শীল। এছাড়াও তিন থেকে চারশ' জন নেতাকর্মীকে মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে