বাগমারায় দোকানিকে ধাওয়া করে গুলির অভিযোগ

এফএনএস (বাগমারা, রাজশাহী) | প্রকাশ: ২২ জুন, ২০২৬, ০২:২২ পিএম
বাগমারায় দোকানিকে ধাওয়া করে গুলির অভিযোগ
রাজশাহীর বাগমারায় এক দোকানিকে গভীর রাতে ধাওয়া করে গুলি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ও তাঁর বাবার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়। আহত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ আবদুল মতিনকে (৪৮) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার চন্দ্রপুরে এই ঘটনা ঘটে। আহত আবদুল মতিন গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে। তিনি হামিরকুৎসা বাজারের ব্যবসায়ী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উদপাড়া গ্রামের চাচা ওসমান আলী ও ভাতিজা আবদুল মতিনের মধ্যে একটি পুকুর ইজারার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে গত ১৮ মে হামিরকুৎসা বাজারের দোকানি ভাতিজা আবদুল মতিনের দোকান ভাঙচুর ও মারপিট করার করা হয়। এই অভিযোগে চাচা ওসমান আলী ও তার ছেলে গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল খলিলকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়। ওই মামলায় পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। তবে এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা জামিনে এসে গত ১৩ জুন থানায় মামলা দায়ের করে। মামলায় আবদুল মতিনকে প্রধান আসামি করা হয়। তিনি চিকিৎসা নিয়ে গ্রেপ্তার এড়াতে পালিয়ে থাকেন। ওই মামলার আসামি মতিনকে ধরার জন্য গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপরিদর্শক রুহুল আমিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ বাড়িতে হানা দিলে তিনি পালিয়ে যান। তবে মামলার আরেক আসামি সাগর হোসেনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। স্বজনেরা জানান, পুলিশ চলে যাওয়ার পর রাত ১১ টার দিকে তিনি বাসায় ফিরে আসলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে ধরার জন্য বাড়িতে হানা দেয়। তবে আবদুল মতিন দৌড়ে পালিয়ে যান। প্রতিপক্ষরাও তাকে অনুসরণ করে। বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে উদপাড়া গ্রামে তাকে পেয়ে হামলা করা হয়। আহত মতিনের বরাত দিয়ে স্বজনেরা আরও জানান, প্রতিপক্ষদের দেখে দৌড় দিলে পায়ে গুলি করা হয়। মাটিতে পড়ে গেলে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ফেলে চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে বাড়িতে খবর দিলে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গোপনে চিকিৎসা করা হয়। পরে আজ রোববার বেলা ১১ টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুই নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন। বিকেল চারটা এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাকে অস্ত্রোপচারের জন্য ওটিতে রাখা হয়েছে বলে স্বজনরা জানান। আহত দোকানির শ্যালক লিটন হোসেন জানান, প্রতিপক্ষ ওসমান ও খলিল তাঁর ভগ্নিপতির ওপর হামলা করেছে। তার পায়ে গুলি করা হয়েছে বলে দাবি করেন। হামলাকারীরা ক্ষমতাসীন দলের এক প্রভাবশালী নেতার প্রশয়ে থাকায় আসামিরা জামিন এসে মামলা করেছে। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল খলিল বলেন, এ ধরনের কোন ঘটনার সঙ্গে তারা জড়িত নয় এবং জানিও না। তবে আমাদের মামলায় কাল শনিবার পুলিশ আসামি ধরতে এসেছিল, এটা শুনেছি এবং একজনকে ধরেছে। তারা মিথ্যা অভিযোগ করছে।' আজ সকালে চন্দ্রপুরে গিয়ে আবদুল মতিনকে আহত অবস্থায় দেখা যায়। তিনি কথা বলতে পারেননি। তবে বাম পায়ের গোড়ালিতে বড় ক্ষত দেখা যায়৷ মাথা ও বুকেও আঘাত লক্ষ করা যায়। এদিকে আজ দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহত আবদুল মতিনের অস্ত্রোপচার করা হয়। বাগমারা থানার ওসি জিল্লুর রহমান জানান, মারামারি হয়েছে শুনেছি, ছবিতে এমন দেখলাম। তবে গুলি করা বা হামলার ঘটনা জানা নেই। কেউ থানায় আসেনি। আসলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে