জামালপুরের মেলান্দহে মাদককারবারিকে পুলিশে দেয়ার সন্দেহে চাচাতো- জেঠাতো ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ এখন তুঙ্গে। এক ভাই আরেক ভাইয়ের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ অবশেষে থানা পর্যন্ত গড়িয়েছে। বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
জেঠাতো ভাই আতাউর রহমান আতর আলী (৬৫) ও তার ছোট ভাই চাঁন মিয়া (৫৫)’র অভিযোগ, গত ১৯ জুন রাতে ৫নং চর নবীন এলাকায় মাদক নির্মূল অভিযানে মিজানুর রহমানের দোকান থেকে জুয়েল নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করে পুলিশ। এ সময় শরিফ বেপারির (৩৫)’র মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়। ওদিকে মোটর সাইকেল মালিক শরিফ বেপারির ধারণা, এই অভিযানে তার জেঠাতো ভাই চাঁন মিয়ার হাত আছে। এ নিয়ে ভাইদের মধ্যে সন্দেহ সংশয় প্রকট আকার ধারণের এক পর্যায়ে শরিফ বেপারি তার বড় ভাই চাঁন মিয়াকে হুমকীর প্রদর্শন করেন। এ ব্যাপারে ২১ জুন চাঁন মিয়া মেলান্দহ থানায় লিখিত অভিযোগ করলে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। গ্রামবাসি বিষয়টি নিস্পত্তির উদ্যোগ নেন।
ইতোমধ্যেই সংক্ষুব্ধ শরিফ বেপারি ২২ জুন তারই জেঠাতো ভাই আতাউর রহমান ও চাঁন মিয়ার বিরুদ্ধে মেলান্দহ থানায় মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করলে বিষয়টি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। ছিনতাইয়ের ঘটনাস্থলের স্বাক্ষি গোলাম মোস্তফা, রহিম বাদশা, ইউপি মেম্বার হাজী মোফাজ্জল হোসেন, বাচ্চু মিয়া এবং জয়নাল বেপারি জানান-এ ধরণের কোন ঘটনা ঘটেনি। পারিবারিক কলহের জের ধরে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
লিয়াকত মিলিটারি, মুকুল মেম্বারসহ অন্যান্যরা জানিয়েছেন, এলাকাবাসির সহায়তায় উভয় পক্ষের বিরোধ দ্রুত নিস্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছি।
ওদিকে শরিফ উদ্দিন বেপারি জানিয়েছেন মাদক কারবারিদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। পুলিশ আমার মোটর সাইকেল ফেরত দিয়েছে। আমি মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগ করিনি। আমাকে মারধরসহ হুমকী প্রদর্শনের অভিযোগ করেছি। এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবু রায়হান জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের পারিবারিক কলহের জের। মাদক অভিযানের সাথে কোন সম্পর্ক নেই। অফিসার ইনচার্জ ওবায়দুর রহমান জানিয়েছেন, মাদক নির্র্মূলের অভিযান অব্যাহত আছে। প্রতিদিন মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার চলছে। এমন কোন ঘটনাকে পুঁজি করে কেও কোন ধরণের ফায়দা নিতে চাইলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, সারাদেশের ন্যায় মেলান্দহকে মাদকমুক্ত ঘোষণার প্রত্যয়ে বেশ কিছুদিন যাবৎ মেলান্দহ থানা পুলিশ প্রশাসন সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রশাসনসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে। চলতি অভিযানে সকলের সহায়তা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন-স্থানীয় বিএনপি নেতা হাজী শামসুদ্দিন এবং হাফিজ দেওয়ানসহ মসজিদের ইমাম এমনকি মাদকাসক্ত ভূক্তভোগি পরিবারের লোকজন। #