মেহেন্দীগঞ্জে ছাত্রলীগ কর্মীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

এফএনএস (মোঃ আরিফুল হক তারেক; মুলাদী, বরিশাল) : | প্রকাশ: ২৫ জুন, ২০২৬, ১১:০৪ এএম
মেহেন্দীগঞ্জে ছাত্রলীগ কর্মীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় মাহবুব আলম বাবু ( ৩০ ) নামের এক ছাত্রলীগের কর্মীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে । এ ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে , দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মিছিলে অংশ নেওয়ার পর বিএনপির কর্মীরা তাঁর ওপর হামলা চালান । তবে বিএনপি ও পুলিশ বলছে , জমি - সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে । গত মঙ্গলবার রাত ৮ টার দিকে সদর ইউনিয়নের পশ্চিম সাদেকপুর গ্রামে মাহবুব আলম বাবুর ওপর হামলা হয় । তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় নেওয়া হলে বুধবার ভোরে তিনি মারা যান । নিহত মাহবুব হোসেন বাবু মেহেন্দীগঞ্জের পশ্চিম সাদেকপুর গ্রামের ৫নম্বর ওয়ার্ডের দুলাল রাঢ়ীর ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন। 

স্থানীয় এক ছাত্রলীগের নেতা দাবি করেন, নিহত মাহবুব হোসেন বাবু ছাত্রলীগের একজন কর্মী ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনসহ ছাত্রলীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন। ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে পশ্চিম সাদেকপুর গ্রামের বিএনপি কর্মী বজলু বয়াতি, জাহাঙ্গীর মাল, শহীদ পোদ্দার অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জন চুনারচর এলাকার আখতার পোদ্দারের চায়ের দোকানের সামনে বাবুকে পিটিয়ে আহত করেন। এতে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মাহবুব আলম বাবুর বাবা দুলাল রাঢ়ী বলেন , ‘ সাদেকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে জমিতে দোকানঘর তোলা নিয়ে স্থানীয় শহিদ পোদ্দারের সঙ্গে বিরোধ চলছে । সেখানে বাবু ঘর তুললে শহিদ তা ভেঙে দেন । এ ঘটনায় মেহেন্দীগঞ্জ থানায় জিডি করা হয়েছে । গত মঙ্গলবার রাতে বাবু একটি চায়ের দোকানে বসা ছিল । তখন শহিদ , বজলু , নয়ন , সাইদুলসহ কয়েকজন তাঁকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করেন । বুধবার সকালে বাবু মারা যান । আমার ছেলে আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত ছিল । পরে আর কোনো রাজনীতি করত না । ' 

নিহতের ছোট ভাই নিরব হোসেন জানান, তাঁর পরিবার স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য। বিদ্যালয়ের মাঠের পাশে বাবু একটি দোকান ঘর নির্মাণ করতে গেলে স্থানীয় বজলু ও জাহাঙ্গীরের সাথে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। এ নিয়ে বাবু থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও পুলিশ কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি। গত মঙ্গলবার রাতে বাবু চা খাওয়ার জন্য আক্তার পোদ্দারের দোকানে বসা ছিল। ওই সময় বজলু বয়াতি, জাহাঙ্গীর মাল, শহীদ পোদ্দার অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জন দুর্বৃত্ত বাবুকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোর সোয়া ৬ টায় তিনি মারা যান।  এ ঘটনার পর আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য পংকজ নাথ সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন , প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিল হলে বিএনপির লোকজন মহড়া দিয়ে আওয়ামী লীগ কর্মী - সমর্থকদের ওপর হামলা করেছে । ছাত্রলীগের কর্মী বাবু মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন । এ জন্য তাঁকে কুপিয়ে জখম করেছে । এতে তাঁর মৃত্যু হয় ।  মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দীন দীপেন বলেন , যাঁরা বাবুকে হত্যা করেছেন , 'তাঁরা বিএনপির কর্মী কি না , জানি না । তবে এই হত্যাকাণ্ডে রাজনৈতিক কোনো সম্পৃক্ততা নেই । জমিজমা নিয়ে ঘটনা ঘটেছে । পংকজ নাথ আগেও এমন গুজব ছড়িয়েছেন ।' এ ব্যাপারে মেহেন্দীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিন উদ্দিন জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মঙ্গলবার রাতে চুনারচর এলাকার একটি চায়ের দোকানে মাহবুব হোসেন বাবুকে প্রতিপক্ষের লোকজন মারধর করে। পরে বুধবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। নিহতের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের কেউ থানায় লিখিত দেননি। লিখিত পেলে দ্রুত মামলা গ্রহণ করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে