দেশজুড়ে হামের প্রকোপ এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়েই আছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯৪৫ শিশুর শরীরে হাম বা এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ মিলিয়ে দেশে মোট ৬৯৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। তবে এই ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। এ সময়ের মধ্যে ৫২ শিশুর হাম নিশ্চিত হয়েছে, আর ৮৯৩ শিশুর মধ্যে দেখা গেছে হামের উপসর্গ। সব মিলিয়ে একদিনে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৪৫।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬০৫ শিশু। আর পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৩ শিশুর। অর্থাৎ, হাম ও এর উপসর্গে মোট প্রাণহানি এখন ৬৯৮। একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৪৪২ জন, আর উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে ৯৬ হাজার ৬৫৩ শিশু।
সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে ঢাকা বিভাগে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া ৯ শিশুর মধ্যে ৮ জনই ঢাকা বিভাগের। বাকি একজনের মৃত্যু হয়েছে সিলেট বিভাগে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ও আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগেই। এ বিভাগে মোট মৃত্যু হয়েছে ৩১৮ জনের, আক্রান্ত হয়েছে ৫২ হাজার ১৫৫ জন।
হাসপাতালভিত্তিক তথ্যও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮০ হাজার ৪৯৭ জন। তাদের মধ্যে ৭৬ হাজার ৭৮৮ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছে। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৬০ শিশু, আর ছাড়পত্র পেয়েছে ৯০৬ জন।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, নিশ্চিত রোগী ও উপসর্গে আক্রান্তের ব্যবধান এখনো বড়। অর্থাৎ, পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়ার আগেই বিপুলসংখ্যক শিশু জ্বর, ফুসকুড়ি ও অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছে। এতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ আরও বাড়ছে। কারণ, সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে দ্রুত শনাক্তকরণ, চিকিৎসা ও টিকাদান কর্মসূচির গতি বাড়ানো জরুরি হয়ে উঠেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে হামের বিস্তার ঠেকাতে অভিভাবকদের শিশুদের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় থাকা শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।