ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) আজ শনিবার বিকালে রাজধানীর বিজয়নগরে একটি হোটেলে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে বললেন, “৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দেশ ও জনগণের কল্যাণে ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক একটি ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী ইসলামের পরিবর্তে ক্ষমতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় সেই ঐক্য টেকসই হয়নি।”
এ সময় সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার আগে বর্তমান সরকার জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথা বললেও বাস্তবে সে ধরনের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণ ও শহীদদের আত্মত্যাগের যে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ছিল, সরকার তা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, ব্যক্তি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত ইসলামী নীতি-আদর্শ বাস্তবায়িত হলে সমাজে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন সরকার দেশের জনগণকে খুন, গুম, দুর্নীতি, অর্থপাচার ও রাজনৈতিক নিপীড়নের বাইরে কিছু দিতে পারেনি। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলমান। অতীতের ইতিহাসে যেখানে ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠিত ছিল, সেখানে মানুষসহ সব প্রাণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছিল। পৃথিবীর ইতিহাসে ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক আদর্শ ছাড়া কোথাও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না।
বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণ তাদের সংসদে পাঠিয়েছে দেশের স্বার্থ, ইসলাম ও মানবতার কল্যাণে কথা বলার জন্য। সংসদে অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা না করে তিনি জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বৃহত্তম রামমূর্তি নির্মাণের বিষয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে দেশে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না হয়।
সীমান্তে পুশ ইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। তবে সীমান্তে এবং বিভিন্ন ইস্যুতে ভারতের কিছু কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের মানুষের কাছে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ করার জন্য তিনি ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।