ভোলার দৌলতখানে ৬ বছর বয়সের শিশু শিক্ষার্থী ছাহেদকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে ভিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বিচারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা। ছাহেদ স্থানীয় তালিমূল কোরআন মাদরাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। রবিবার (২৮ জুন) উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ছিডু বেপারী বাড়ির সামনে বিক্ষোভ করে ঘাতক রাকিবকে আটকের দাবি জানান তারা। রাকিবের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মারুফ জানান, ঘটনার পর পরই রাকিব পালিয়ে গেছে। নিহত ছাহেদের বাবা মোসলে উদ্দিন ও মা কোহিনুর বেগম আমার দেশ এ প্রতিনিধিকে বলেন, আমাদের কলিজার পাখি শুক্রবার (২৬ জুন) জুমার নামাজের সময় বাড়ির দুই ছেলের সঙ্গে গোসল করতে রাকিব পাটোয়ারীর পুকুরে যায়। এসময় সে তাদেরকে ধাওয়া ও গালমন্দ করলে অন্যরা চলে যায়। ছাহেদকে একা পেয়ে ইটপাটকেল মেরে হত্যা করে সে।
আমরা তাকে খোঁজ করে না পেয়ে সন্দেহ হয়। পুকুরে নামতে গেলে রাকিব ও মিলন ওরফে মিলু পাটোয়ারী বাধা দেয় এবং অকথ্য ভাষায় আমাদেরকে গালিগালাজ করে। তারা লাশ গুম করার ষড়যন্ত্র করে। পরে এলাকার লোকজন পুকুর থেকে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করে। মৃতদেহের মুখে ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখে পুলিশকে খবর দেয়। রাকিবের সাথে আমাদের জমাজমির বিরোধকে কেন্দ্র করে সে এ ঘটনা ঘটিয়েছে দাবি করেন তারা। এলাকার মিজানুর রহমান, রাসেল, বাহার ও বিবি হালিমা জানান, মিলন পাটোয়ারী ওই ওয়ার্ডের বিএনপি'র সভাপতি হওয়ায় রাকিব ও মিলু পাটোয়ারী এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আমাদের উপর জুলুম করছে। আমাদের ঘরবাড়ি দখল করতে চায়। আমরা নদী সিকস্তি। ভয়ে কিছু বলতে পারছি না। এ ব্যাপারে মিলন পাটোয়ারীর বক্তব্য নিতে মোবাইলে তাকে পাওয়া যায়নি। দৌলতখান থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফখরুল ইসলাম আমার দেশকে জানান, পোস্টমর্টেমের রিপোর্ট পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।