শিশুদের স্ক্রিন আসক্তি

প্রযুক্তি বিচ্ছিন্ন নয়, ভারসাম্যপূর্ণ অভ্যাস জরুরি

এফএনএস
| আপডেট: ২৯ জুন, ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম | প্রকাশ: ২৯ জুন, ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
প্রযুক্তি বিচ্ছিন্ন নয়, ভারসাম্যপূর্ণ অভ্যাস জরুরি

আধুনিক প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার এখন শিশুদের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মোবাইল ফোন, ট্যাব, কম্পিউটার ও টেলিভিশনের দীর্ঘ সময়ের ব্যবহার তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। চোখের সমস্যা, মাথাব্যথা, অনিদ্রা, মনোযোগের ঘাটতি, খিটখিটে আচরণ ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা—এসব সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। শৈশব যেন বন্দি হয়ে পড়ছে ডিজিটাল স্ক্রিনে। করোনাকালে অনলাইন শিক্ষার কারণে শিশুদের স্ক্রিন-নির্ভরতা আরও বেড়েছিল, যা মহামারি শেষে অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এখন লেখাপড়া, বিনোদন, এমনকি বন্ধুত্বও অনেকাংশে স্ক্রিনকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন, দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, শারীরিক কর্মকাণ্ড কমে যাওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগে অনীহা শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। অনেক শিশু সহজেই উদ্বিগ্ন, বিষণ্ন কিংবা রাগী হয়ে উঠছে। অথচ অধিকাংশ পরিবার এখনও এই ঝুঁকিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে না। শিশুকে চুপ করিয়ে রাখতে মোবাইল ফোন যেন সহজ ‘ডিজিটাল খেলনা’ হয়ে উঠেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বয়সভেদে সীমিত স্ক্রিন টাইমের পরামর্শ দিয়ে আসছেন, বিশেষত পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। আমাদের মতে, এ সংকট মোকাবিলায় পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। অভিভাবকদের উচিত শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট স্ক্রিন সময় নির্ধারণ করা এবং বিকল্প বিনোদন যেমন বই পড়া, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দেওয়া। স্কুলগুলোতে সীমাতিরিক্ত সময় ডিজিটাল ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিশেষ কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারকে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাতীয় পর্যায়ে প্রচার ও গবেষণা বাড়াতে হবে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, প্রযুক্তি পুরোপুরি বন্ধ করা সমাধান নয়। বরং শিশুদের বাড়িতে ও স্কুলে স্বাস্থ্যকর এবং ভারসাম্যপূর্ণ ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এজন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য সহজ নির্দেশিকা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন। প্রযুক্তি আধুনিক জীবনের অপরিহার্য অংশ, তবে এর অপব্যবহার কোনোভাবেই কাম্য নয়। শিশুদের হাতে শুধু স্ক্রিন নয়, সুন্দর ও সুস্থ শৈশব তুলে দিতে হবে। নইলে আগামী প্রজন্ম এক ভয়াবহ মানসিক ও সামাজিক সংকটের মুখে পড়বে।