পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সাগর মোহনার কাউয়ারচর সৈকতের বেলাভূমে ভেসে আসল একটা বিশালকায় মৃত তিমি। পঁচাগলা তিমিটি সোমবার দুপুরে ভেসে এসেছে বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেন। খবর পেয়ে বনবিভাগের কর্মীরা মৃত তিমিটি মাটি চাপা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। পরিবেশ সংগঠক কেএম বাচ্চু জানান, তিমিটি পঁচেগলে গেছে। এটি প্রায় ৫৬ ফুট লম্বা ও ১৮ ফুট প্রস্থ। এটির মাথার অংশ ঢেউয়ের আঘাতে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। বনবিভাগ মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে মৃত তিমি মাটি চাপা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামুদ্রিক প্রাণি বিশেষজ্ঞ ও গোপালগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো কামরুল ইসলাম জানান, কলাপাড়ায় সংলগ্ন সমুদ্র উপকূলে যে মৃত তিমিটি পাওয়া গেছে, তার বাহ্যিক আকৃতি, রং ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি ইন্দো-প্যাসিফিক লংম্যানস বিকড হোয়েল (খড়হমসধহ'ং ইবধশবফ ডযধষব)। সাধারণত এ প্রজাতির তিমি ভারত মহাসাগর, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ সংলগ্ন উষ্ণ সমুদ্র অঞ্চলে বিচরণ করে। তিমিটির চামড়ার রং কিছুটা লালচে, ঠোঁট তুলনামূলক লম্বাটে এবং এর ফ্লিপারগুলো ছোট ও গোলাকার আকৃতির। এরা সাধারণত ২৭ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার উষ্ণ সমুদ্র অঞ্চল পছন্দ করে। খাদ্যের সন্ধানে অনেক সময় দলবদ্ধভাবে উপকূলীয় এলাকায়ও চলে আসে। বাংলাদেশের সামুদ্রিক সংরক্ষিত অঞ্চল ঝধিঃপয ড়ভ ঘড় এৎড়ঁহফ-এ দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের তিমির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মৃত তিমিটি কোনো জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়ে মারা যেতে পারে। এছাড়া সমুদ্রে অতিরিক্ত শব্দদূষণ, নৌযানের নেভিগেশন সিস্টেমের শব্দ বা অন্যান্য দূষণও এ ধরনের তিমির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তিমিটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে জানতে বায়োপসি ও অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। বর্তমানে বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে এটিকে লংম্যানস বিকড হোয়েল হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য ২৬ দিন আগে এভাবে কুয়াকাটা সৈকতে আরও একটি বিশালকার মৃত তিমি ভেসে আসে।