দেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম অঙ্গনের অন্যতম পথিকৃৎ মুস্তাফা মনোয়ারকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভিড় করেন শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের মানুষ। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা শেষে সকাল ১১টার দিকে তাঁর মরদেহ শহীদ মিনারে নেওয়া হলে শুরু হয় ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা।
দীর্ঘদিন নানা শারীরিক জটিলতায় ভোগার পর সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বরেণ্য এই চিত্রশিল্পী, পাপেট আন্দোলনের পথিকৃৎ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।
মঙ্গলবার সকালে বিটিভি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত জানাজায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী, বিটিভির কর্মকর্তাসহ শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা অংশ নেন। পরে মরদেহ শহীদ মিনারে নেওয়া হলে নাট্যকার রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, তারিক আনাম খান, ত্রপা মজুমদার, নিমা রহমান, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দীন স্টালিন, চিত্রশিল্পী মনিরুজ্জামান, শারমিন এস মুরশীদ, কেরামত মাওলাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী শেষ শ্রদ্ধা জানান।
ব্যক্তিগত শ্রদ্ধার পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট, কর্মজীবী নারী, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, প্রাচ্যনাট, বঙ্গরঙ্গ নাট্যদল, বটতলা, দূরন্ত স্টেশনসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন তাঁর কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।
জানাজা শেষে স্মৃতিচারণ করে নাট্যব্যক্তিত্ব ম হামিদ বলেন, “মুস্তাফা মনোয়ার কারও শুধু শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের ‘ফ্রেন্ড, ফিলোসফার অ্যান্ড গাইড’। তাঁর সঙ্গে প্রতিটি আড্ডাই ছিল শেখার জায়গা।” তিনি আরও বলেন, মুস্তাফা মনোয়ারের পরামর্শেই তিনি প্রশাসন ক্যাডারের চাকরি ছেড়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনে যোগ দিয়েছিলেন।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম বলেন, “তিনি ছিলেন আমাদের প্রেরণার উৎস। শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির এমন কোনো ক্ষেত্র নেই, যেখানে তাঁর অবদান নেই। বিটিভি থেকে শুরু করে দেশের নানা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে তিনি অসামান্য ভূমিকা রেখে গেছেন।”
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “দেশের প্রতিভাবান মানুষের তালিকা করলে মুস্তাফা মনোয়ার প্রথম সারিতেই থাকবেন। তিনি অন্তর্গতভাবেই একজন খাঁটি শিল্পী ছিলেন। যে দায়িত্বই পালন করেছেন, সেখানেই রেখে গেছেন তাঁর মেধা ও সৃজনশীলতার স্বাক্ষর।”
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজার জন্য নেওয়া হবে। এরপর কিছু সময়ের জন্য রাখা হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে, যেখানে তিনি দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন। পরে বনানী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।