জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ বঞ্চিত হওয়ায় কলাপাড়ায় মানববন্ধন

এফএনএস (মিলন কর্মকার রাজু; কলাপাড়া, পটুয়াখালী) :
| আপডেট: ১ জুলাই, ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম | প্রকাশ: ১ জুলাই, ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ বঞ্চিত হওয়ায় কলাপাড়ায় মানববন্ধন

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে  কলাপাড়াসহ দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন এবং  নয় দফা দাবিতে ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন কলাপাড়ার হাজার হাজার মানুষ। বুধবার সকাল ১০ টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এ মানববন্ধনে সবার একঔ দাবি, আমাদের কি দোষ। কেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ উন্নয়ন বঞ্চিত হলো। দীর্ঘ মানববন্ধনের আয়োজক নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন,  তাদের আশা  প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন বঞ্চিত দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি মেনে নিবেন।  বুধবার সকাল ১০ টা।  দীর্ঘ ৩০ কিলোমিটার সড়ক লোকে লোকারণ্য। উন্নয়ন বঞ্চিত হওয়ায় সবাই হাতে হাত বেঁধে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে গিয়েছেন। ব্যানার, প্লাকার্ড হাতে নিয়ে আওয়াজ তুলেছেন তাদের জাতীয় বাজেটে দক্ষিণাঞ্চলের জন্য বরাদ্দ এবং  তাদের নয় দফা দাবি মেনে নেওয়া হোক।  স্মরণকালের বৃহৎ এ মানববন্ধনে রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সুশীল সমাজ, শিক্ষক, সাংবাদিক, স্কুল কলেজে শিক্ষার্থীসহ  কৃষক, শ্রমিক সবাই অংশ নেয়। কুয়াকাটাগামী সিক্স লেন, পায়রা বন্দর সড়ক থেকে শুরু করে কুয়াকাটাগামী তিন সেতু ও পর্যটন কেন্দ্র  কুয়াকাটা জিড়ো পয়েন্ট পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার সড়কে হাজার হাজার মানুষ  দাঁড়িয়ে যায় তাদের দাবি আদায়ে। জাতীয় বাজেটে কুয়াকাটা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ছয় লেন সড়ক নির্মাণ, পর্যটন শিল্পের বিকাশে কুয়াকাটা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন, কলাপাড়ার প্রস্তাবিত স্থানে বিমানবন্দর নির্মাণ, পায়রা বন্দরকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা, ভাঙ্গা রেল স্টেশন থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত রেল সংযোগ স্থাপন, নদীভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, ভোলার গ্যাস ব্যবহার করে ভোলা-বরিশাল-পটুয়াখালী অঞ্চলে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীতকরণ, বরিশাল-ভোলা সেতু নির্মাণের দাবি জানান সাধারণ মানুষ। 

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে পৌর বিএনপির সভাপতি গাজী মোহাম্মদ ফারুক বলেন, গোটা বরিশালবাসী এবারের বাজেটে বঞ্চিত হয়েছে। এ কারনে তারা হতাশ। সমাজকর্মী কামরুজ্জামান কাজল তালুকদার ও নাসির উদ্দিন রতন বলেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার স্লোগানে দলমত নির্বিশেষে মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়েছে। অথচ বরিশাল আজ উন্নয়ন বঞ্চিত। চাকামইয়া ইউপি চেয়ারম্যান মজিবর রহমান বলেন, পায়রা বন্দর সচল হলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষকে কর্মসংস্থানের জন্য আর ঢাকায় যেতে হবে না। বিএনপি নেতা খন্দকার নাসির উদ্দিন, সেলিম সিকদার, গাজী মো. হারুন বলেন, পায়রা সমুদ্র বন্দর, কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্র,  সিক্স-লেন সড়ক নির্মাণ করে দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে বাজেটে বরাদ্দ রাখা হোক। 

কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান বলেন, কুয়াকাটা সৈকত ভেঙ্গে বিলীন হচ্ছে।  কিন্তু বাজেটে কোন বরাদ্দ নেই।  পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিক মেজবাহউদ্দিন মাননু বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প চলমান কলাপাড়ায়। কিন্তু কলাপাড়াসহ দক্ষিণাঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নে বাজেটে কোন বরাদ্দ না থাকায় তারা হতাশ। কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান চুন্নু বলেন, উন্নয়ন বঞ্চিত দক্ষিণাঞ্চলবাসীর কথা সংসদে পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য বিশদ উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু বাজেট পাশ হলেও তারা অবহেলিত রয়ে গেছেন। মানববন্ধন আয়োজবের অন্যতম সমন্বয়ক ও কলাপাড়া উপজেলা বিএনপি সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার বলেন, তাদের আশা প্রধানমন্ত্রী তাদের উন্নয়ন বঞ্চিত রাখবেন না। তাদের দাবিগুলো মেনে নিবেন। কেননা বরিশাল বিভাগে ১৮ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে ধানের শীষ প্রতীকের।  তিনি বলেন, কুয়াকাটা পর্যন্ত রেললাইন,  সিক্স লেন সড়ক নির্মাণ এখন গোটা বরিশালবাসীর দাবি। তাই স্মরণকালের বৃহৎ এ মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচী দেখে প্রধানমন্ত্রী তাদের দাবিগুলো মেনে নিবেন বলে আশা করছেন। পায়রা বন্দরে যাতে মাদার ভ্যাসেল প্রবেশ করতে পারে এজন্য রাবনাবাদ নদীর চ্যানেলে ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নিবেন।  দক্ষিণাঞ্চলবাসীর ন্যায্য দাবি আদায় ও উন্নয়নের স্বার্থে সর্বস্তরের জনগণ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে