রাজশাহীতে মহাসড়কে ডাকাতি, ১৯ মহিষ বোঝাই ট্রাক লুট

এম এম মামুন; রাজশাহী
| আপডেট: ১ জুলাই, ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম | প্রকাশ: ১ জুলাই, ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
রাজশাহীতে মহাসড়কে ডাকাতি, ১৯ মহিষ বোঝাই ট্রাক লুট
রাজশাহীর পুঠিয়া মহাসড়ক-ডাকাতদের নিরাপদ করিডরে পরিণত হচ্ছে। একই সড়কে, একই কৌশলে আবারও লুট হলো ১৯টি মহিষবোঝাই একটি ট্রাক। কয়েক মাস আগেই একই এলাকায় ডাকাতদের কবলে পড়েছিল গরুবোঝাই ছয়টি ট্রাক। পরপর এমন ঘটনায় মহাসড়কের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দিবাগত রাত প্রায় ৩টা ২০ মিনিটে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পুঠিয়া উপজেলার তারাপুর ও মাইপাড়া বাজারের মাঝামাঝি নির্জন অংশে ঘটে এ ঘটনা। ব্যবসায়ী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় সাতজন ব্যবসায়ী যৌথভাবে সিলেট থেকে ১৯টি মহিষ কিনে ট্রাকযোগে রাজশাহীর সিটি হাটে নিয়ে আসছিলেন। পথিমধ্যে তারাপুর বাজার অতিক্রম করার পর একটি ড্রাম ট্রাক দিয়ে মহিষবোঝাই ট্রাকটির পথরোধ করে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল। অভিযোগ অনুযায়ী, ডাকাতরা ট্রাকের চালক, হেলপারসহ চারজনকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে ফেলে। মুখে টেপ লাগিয়ে তাদের জিম্মি অবস্থায় অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সিরাজগঞ্জের কাচিকাটা টোলপ্লাজার আগে একটি পাটক্ষেতে তাদের ফেলে রেখে ট্রাক ও মহিষ নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। বুধবার সকালে মুক্ত হয়ে ভুক্তভোগীরা পুঠিয়া থানায় এসে মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেন। ঘটনার পর ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পশুবাহী ট্রাকচালকদের অনেকেই রাতের বেলায় এই মহাসড়ক ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ডাকাতির শিকার ট্রাকের চালক রিয়াজউদ্দিন বলেন, “তারাপুর বাজার পার হওয়ার পরই একটি ড্রাম ট্রাক আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়। এরপর কয়েকজন এসে আমাদের মারধর করে, মুখে টেপ লাগিয়ে তুলে নিয়ে যায়। পরে কাচিকাটা এলাকায় একটি পাটক্ষেতে ফেলে রেখে তারা ট্রাক নিয়ে চলে যায়।” স্থানীয়দের অভিযোগ, পুঠিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই চুরি, ছিনতাই, মাদক কারবারসহ নানা অপরাধ বেড়েই চলেছে। মহাসড়কে ধারাবাহিক ডাকাতির ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে।একই স্থানে পরপর পশুবাহী ট্রাক লুটের ঘটনায় এখন প্রশ্ন উঠছে—মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর পদক্ষেপ কবে নেওয়া হবে? নাকি ডাকাতদের দাপটেই আতঙ্কে চলাচল করবেন ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকরা। এ বিষয়ে পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, “ভুক্তভোগীরা আমাদের কাছে এসে জানিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে মহিষ লুণ্ঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অনুসন্ধান অব্যাহত আছে।”
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে