আপিল বিভাগের রায়ে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পথ পরিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক
| আপডেট: ২ জুলাই, ২০২৬, ১২:০১ পিএম | প্রকাশ: ২ জুলাই, ২০২৬, ১২:০১ পিএম
আপিল বিভাগের রায়ে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পথ পরিষ্কার

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পথ অবশেষে উন্মুক্ত হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ রায় দিয়ে জানিয়েছেন, ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আর কোনো আইনি বাধা নেই। ফলে দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সরকারের সামনে আর আইনি প্রতিবন্ধকতা থাকছে না।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এ সংক্রান্ত একটি মামলার চূড়ান্ত রায় দেন আপিল বিভাগ। রায়ের পর রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “আপিল বিভাগের এ রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে যে আইনি জটিলতা ছিল, তার অবসান হয়েছে। এখন ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পথ উন্মুক্ত হলো।”

তিনি আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রমও আরও গতিশীল হবে। রায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দুপুর ২টায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সংকট দূর করতে ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে পুরো প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে আটকে ছিল।

মামলার পটভূমিতে জানা যায়, ২০১৭ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের চাকরিকালের ৫০ শতাংশ গণনা করে গ্রেডেশন তালিকা প্রণয়ন, জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক সুবিধার দাবিতে হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়। ওই রিটের শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ১১ মার্চ হাইকোর্ট রুল আংশিক মঞ্জুর করেন। পরে সেই রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের নিষ্পত্তি করে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আপিল বিভাগ প্রধান শিক্ষক নিয়োগে থাকা আইনি জটিলতা দূর হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেন।

সংশ্লিষ্টদের আশা, এই রায়ের ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক সংকটে থাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে