টাঙ্গাইলের নাগরপুরে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর পাটক্ষেত থেকে শওকত মোল্লা (৫৫) নামে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত এবং সখীপুরে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর পারভীন আক্তার (৪৬) নামে এক বিধবা নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নাগরপুর থানা পুলিশ জানায়, নিহত শওকত উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের নলসন্ধ্যা গ্রামের মৃত জয়েদ আলী মোল্লার ছেলে। বুধবার(১ জুলাই) দুপুরে ওই ইউনিয়নের বিন্নাওঝা গ্রামের গাজী কবিরের পাটক্ষেত থেকে শওকতের অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহতের চাচাত ভাই মো. আয়নাল মোল্লা জানান, গত তিন দিন ধরে তার ভাই শওকত মোল্লা নিখোঁজ ছিল। বুধবার দুপুর ১ টার দিকে বিন্নাওঝা গ্রামে একটি মরদেহ পাওয়ার খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে দেখতে পান তার ভাইয়ের মরদেহ পরে রয়েছে। নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহুরুল ইসলাম স্থানীয়দের বরাতে জানান, উপজেলার নলসন্ধ্যা গ্রামের মৃত জয়েদ আলী মোল্লার ছেলে শওকত মোল্লার অর্ধগলিত মরদেহ পাশ্ববর্তী বিন্নাওঝা গ্রামের জনৈক গাজী কবিরের পাটক্ষেতে স্থানীয়রা পরে থাকতে দেখে। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃত ব্যক্তির মরদেহ সনাক্ত করে। পরে সংবাদ পেয়ে নাগরপুর থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
তিনি জানান, এ ঘটনার মোটিভ সম্পর্কে এখনও কোনো কিছু জানা যায়নি। তবে তদন্তের পর মোটিভ সম্পর্কে জানা যাবে। অপরদিকে, টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর পারভীন আক্তার (৪৬) নামে এক বিধবা নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১ জুলাই) সকালে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাসপাতাল গেট এলাকার দক্ষিণ পাশে বাসার নিকটবর্তী একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত পারভীন আক্তার মৃত হুমায়ন খানের স্ত্রী। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পারভীন আক্তার এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী। ছেলে সোহেল রানা ফাহাদ ঢাকার সাভারে চাকরির কারণে সেখানে বসবাস করেন এবং মেয়ের বিয়ে হয়েছে প্রায় দুই মাস আগে। এরপর থেকে পারভীন বাড়িতে একাই থাকতেন।
স্বজনরা জানায়, গত ২৯ জুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছেলের সঙ্গে মোবাইলে তার সর্বশেষ কথা হয়। পরদিন সকাল থেকে পরিবারের সদস্যরা বারবার ফোন করলেও মোবাইল ফোন সচল থাকলেও তিনি আর কোনো কল রিসিভ করেননি। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে ছেলে ফাহাদ ঢাকা থেকে সখীপুরে ফিরে এসে থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালানোর পর বুধবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের ছেলে সোহেল রানা ফাহাদ দাবি করেন, তার মাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। এ বিষয়ে বাসাইল-সখীপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) একেএম মামুনুর রশিদ জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।