ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ে পাঠদান আর কতদিন?

এফএনএস
| আপডেট: ২ জুলাই, ২০২৬, ০৩:১১ পিএম | প্রকাশ: ২ জুলাই, ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ে পাঠদান আর কতদিন?

শিক্ষা শুধু পাঠ্যপুস্তকের বিষয় নয়; এটি একটি নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করারও দায়িত্ব। কিন্তু যখন কোনো বিদ্যালয়ের ভবন সরকারিভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও সেখানে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত থাকে, তখন তা কেবল অবকাঠামোগত দুর্বলতার নয়, প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতারও প্রতিফলন। দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা গেছে, ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি বিদ্যালয়ের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা গেলেও বাকি দুটি বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের অভাবে শিক্ষার্থীরা এখনো জরাজীর্ণ ভবনে পাঠ নিচ্ছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক, কারণ ভবনগুলোতে ছাদের প্লাস্টার খসে রড বেরিয়ে এসেছে, দেয়ালে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে নতুন ভবনের দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, সমস্যাটি নতুন নয়। একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে ভবনগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পরও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত হতে পারে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পুনরায় আবেদন করার উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও প্রশ্ন থেকে যায়-ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়টি যখন বহু বছর ধরেই জানা ছিল, তখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আগে কেন নেওয়া হলো না? সরকারি অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে দীর্ঘসূত্রতা প্রায়ই জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এর মূল্য আরও বেশি, কারণ এখানে শিশুদের নিরাপত্তা সরাসরি জড়িত। প্রাথমিক শিক্ষা একটি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের ভিত্তি। তাই বিদ্যালয়ের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা বিলাসিতা নয়, রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। শুধু নতুন ভবন নির্মাণই নয়, দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোর নিয়মিত নিরাপত্তা নিরীক্ষা, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা হালনাগাদ এবং জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার বা পুনর্র্নিমাণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। পাশাপাশি বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা না করে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চালিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতিও যেন আর তৈরি না হয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা কোনোভাবেই প্রশাসনিক জটিলতা বা বাজেট সংকটের কাছে গৌণ হতে পারে না। দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগাম প্রতিরোধমূলক উদ্যোগই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার। কোমলমতি শিশুদের জন্য নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে একটি দায়িত্বশীল শিক্ষা ব্যবস্থার প্রকৃত পরিচয়।