চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত বিভিন্ন সঞ্চয় কর্মসূচির মুনাফার হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে আগামী ছয় মাস সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীরা আগের নির্ধারিত হারেই মুনাফা পাবেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সরকারি ঋণ ও আর্থিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ।
সহকারী সচিব ফারহানা জাহান উপমার সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত যে সুদহার ও শর্ত কার্যকর ছিল, জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়েও একই হার ও শর্ত বহাল থাকবে। বিদ্যমান সুদহার ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হয়েছে।
সরকারের এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিভিন্ন স্কিমে সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশের মধ্যে থাকবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রতি ছয় মাস পরপর সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পর্যালোচনা করে পুনর্নির্ধারণ করা হয়। চলতি বছরের শুরুতে মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরে তা প্রত্যাহার করে আগের হারই বহাল রাখা হয়। এবারও সেই হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, "সঞ্চয়পত্রের বর্তমান মুনাফার হারই বহাল থাকবে। নতুন করে কোনো পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে না।"
বর্তমান ব্যবস্থায় সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগকারীদের দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগকারীরা প্রথম ধাপে এবং এর বেশি বিনিয়োগকারীরা দ্বিতীয় ধাপে রয়েছেন। স্কিমভেদে দুই শ্রেণির জন্য মুনাফার হারে সামান্য পার্থক্য রয়েছে।
সবচেয়ে জনপ্রিয় পরিবার সঞ্চয়পত্রে প্রথম ধাপের বিনিয়োগকারীরা মেয়াদ শেষে সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ধাপের বিনিয়োগকারীরা সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ মুনাফা পাবেন। অন্যদিকে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে প্রথম ধাপের বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ মুনাফা ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ, যা বর্তমানে জাতীয় সঞ্চয় স্কিমগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ হার।