মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে নিম্নমানের খাদ্য বিতরণের অভিযোগ প্রকাশের পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের নির্দেশে তাৎক্ষণিক তদন্ত পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আজ শুক্রবার সকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. তানভীর মিয়ার পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা শিক্ষা অফিস দ্রুত ঘটনাস্থলে তদন্ত পরিচালনা করে। তদন্তে দেখা যায়, গত ১ জুলাই শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা ১৩৩টি ডিমের মধ্যে ২০টি নিম্নমানের ছিল। বিষয়টি বিদ্যালয়ের গার্ডিয়ান কমিটি তাৎক্ষণিকভাবে খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সুশীলনের নজরে আনে। পরে প্রতিষ্ঠানটি এক ঘণ্টার মধ্যেই ত্রুটিপূর্ণ ডিমগুলো অপসারণ করে নতুন ও মানসম্মত ডিম সরবরাহ করে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার বিতরণ নিশ্চিত করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, বানরুটির মান ভালো ছিল বলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, দপ্তরি, প্রতিবেশী এবং তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা লিখিত ও মৌখিকভাবে জানিয়েছেন।প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে মান নিয়ন্ত্রণে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গার্ডিয়ান কমিটি গঠনের উদ্দেশ্যই ছিল শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও খাদ্যের মান নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সরাসরি সম্পৃক্ত করা। বাঁশবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘটনায় সেই উদ্যোগের কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য নিয়ে আপস করা হবে না। বাঁশবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘটনাটি প্রমাণ করেছে, গার্ডিয়ান কমিটির কার্যকর তদারকির কারণেই ত্রুটিপূর্ণ ডিম বিতরণের আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পূর্ণভাবে এড়ানো গেছে।