রাজনীতিতে ত্যাগের সংজ্ঞা যদি কাউকে দিয়ে নির্ধারণ করতে হয়, তবে এই মুহূর্তে সীতাকুণ্ডের মানুষ একবাক্যে একটি নামই উচ্চারণ করবেন, লায়ন আসলাম চৌধুরী এফসিএ। ওয়ান-ইলেভেনের পটপরিবর্তন কিংবা ২০১৩-১৪ সালের তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলন, যখনই দলের অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে, সীতাকুণ্ডের এই হেভিওয়েট নেতাই হয়ে উঠেছিলেন রাজপথের প্রধান কাণ্ডারি। বিশেষ করে ২০১৩-১৪ সালের আন্দোলন চলাকালীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক তথা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক লাইফ লাইন অবরুদ্ধ করে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের সিংহাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। আর সেই রাজনৈতিক অপরাধেই ফ্যাসিবাদের চরম রোষানলের শিকার হতে হয় বিএনপির এই নীতিবান নেতাকে।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকার তাঁর ওপর একের পর এক মিথ্যা মামলার পাহাড় চাপিয়ে দেয়। দীর্ঘ প্রায় এক যুগেরও অধিক সময় তাঁকে কাটাতে হয়েছে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১৫ মে ঢাকার খিলক্ষেত এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতারের পর থেকে একটানা দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর বিনা বিচারে ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় তাঁকে কারান্তরীণ রাখা হয়। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর স্বৈরাচারের পতনের পর ২০ আগস্ট চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে যখন তিনি নিজ এলাকায় পা রাখেন, তখন সীতাকুণ্ডের মহাসড়ক জনসমুদ্রে রূপ নিয়েছিল। তৃণমূলের সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীরা তাঁদের প্রিয় কারানির্যাতিত নেতাকে ফিরে পেয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যেও চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বড় দ্বার গা হাট বড়দার গাট হয়ে ভাটিয়ারী জলিল নিজ বাড়িতে যাওয়া পর্যন্ত হাজার হাজার নেতা কর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছিলেন বিএনপি'র সাবেক যুগ্ন মহাসচিব মজলুম জননেতা অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এফসিএ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সুদীর্ঘ ৯ বছর কারাগারের চার দেয়ালের ভেতরে বন্দি থেকেও আসলাম চৌধুরী এক মুহূর্তের জন্যও বিচ্ছিন্ন হননি তাঁর চেনা আঙিনা থেকে। কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্ঠে তীব্র কষ্ট ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করেও তিনি সবসময় সীতাকুণ্ডের প্রত্যন্ত অঞ্চলের তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের খোঁজখবর রাখতেন। আন্দোলন-সংগ্রামে সীতাকুণ্ডের যেসব কর্মী আহত হয়েছেন, কারাবরণ করেছেন কিংবা শহীদ হয়েছেন, কারাগার থেকেই বিশ্বস্ত মাধ্যমে তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন, দিয়েছেন পরম সান্ত্বনা ও আর্থিক সহযোগিতা। এই মানবিক গুণই তাঁকে আজ দলমত নির্বিশেষে সীতাকুণ্ডের প্রতিটি সাধারণ মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় আসীন করেছে। সীতাকুণ্ডের এক প্রবীণ রিকশাচালক আবেগাপ্লুত কণ্ঠে এই প্রতিবেদককে বলেন, আসলাম ভাই শুধু বড় নেতা নন, তিনি আমাগো সুখ-দুঃখের মানুষ। উনি জেলে থাকলেও ওনার মনটা পইড়া আছিল সীতাকুণ্ডের গরিব মানুষের কাছে। নির্বাচনে আমরা ওনাকে বিপুল ভোটে জয়ী করছি, কারণ আমরা ওনার এই ত্যাগের মর্যাদা দিতে চাইছিলাম। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসন থেকে আসলাম চৌধুরী বিপুল ভোটে বিজয়ী হলেও, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের রায় দিলে সীতাকুণ্ডের সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়। আদালতের রায়ের পর বিক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়কে নেমে এলেও, প্রিয় নেতার প্রতি চরম অনুগত তৃণমূল নেতাকর্মীরা এখন শান্ত। কারণ, আসলাম চৌধুরী নিজেই কারাগার থেকে শেখা ধৈর্য ও শৃঙ্খলার পাঠ দিয়ে কর্মীদের শান্ত থাকার এবং সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ায় এই লড়াই মোকাবিলার নির্দেশ দিয়েছেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, যে নেতা দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরাচারের অন্ধকার সেলে থেকেও আদর্শচ্যুত হননি, যিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে নিজের জীবনের সোনালী সময় বিলিয়ে দিয়েছেন, আদালতের রায়ে সাময়িকভাবে থমকে দেওয়া গেলেও সাধারণ মানুষের হৃদয় থেকে মুছে ফেলা অসম্ভব। এখন পুরো সীতাকুণ্ডবাসীর চোখ দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের রিভিউ আবেদনের দিকে। আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে সত্যের জয় হবে এবং জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত ভোটের মাঠের জনপ্রিয় নেতা আসলাম চৌধুরী তাঁর প্রাপ্য অধিকার ফিরে পেয়ে সগৌরবে সীতাকুণ্ডের মানুষের মাঝে ফিরে আসবেন, এমনটাই এখন সাধারণ মানুষের একমাত্র প্রত্যাশা।