হায়রে সর্বনাশী তিস্তা!

কখনো বুকে কলঙ্কের দাগ, কখনো উন্নয়নের স্বপ্ন-দুই বাস্তবতায় তিস্তা

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) : | প্রকাশ: ৪ জুলাই, ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম
কখনো বুকে কলঙ্কের দাগ, কখনো উন্নয়নের স্বপ্ন-দুই বাস্তবতায় তিস্তা

তিস্তা থেকে ফিরে সৈয়দপুর উত্তর জনপদের প্রাণ, আবার একই সঙ্গে হাজারো মানুষের দীর্ঘশ্বাসের নাম তিস্তা। বছরের একটি সময় এই নদীকে ঘিরে জেগে ওঠে উন্নয়নের স্বপ্ন, আর বর্ষা এলেই সেই নদীই হয়ে ওঠে ভয়, আতঙ্ক ও সর্বনাশের প্রতীক। তাই উত্তরাঞ্চলের মানুষের কণ্ঠে বারবার উচ্চারিত হয়,"হায়রে সর্বনাশী তিস্তা!" একদিকে নদীর বুকে পানি কমে গেলে দেখা দেয় বিস্তীর্ণ চর, নাব্যতা সংকট ও কৃষি উৎপাদনে অনিশ্চয়তা। অন্যদিকে অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে মুহূর্তেই ফুলে-ফেঁপে ওঠে তিস্তা। নদীর তীরবর্তী নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, সড়ক ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হতে হয়। গণমাধ্যমকর্মী আবেদ আলীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীকে ঘিরে নানা পরিকল্পনা ও প্রকল্পের কথা শোনা গেলেও স্থায়ী সমাধান এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। নদীশাসন, ভাঙনরোধ, পানি ব্যবস্থাপনা এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা দিন দিন বাড়লেও বাস্তব অগ্রগতি কাঙ্ক্ষিত নয়।

জাতীয় নাগরিক পার্টি নীলফামারী জেলা শাখার আহবায়ক আব্দুল মজিদ বলেন, তিস্তাকে কেবল দুর্যোগের উৎস হিসেবে নয়, বরং একটি সম্ভাবনার নদী হিসেবেও দেখতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি, সেচ, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে তিস্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দা শফিয়ার রহমান বলেন,"কখনো তিস্তার বুকে আমরা অবহেলা আর দূষণের কলঙ্কের দাগ লাগাই, আবার প্রয়োজনের সময় সেই তিস্তাকেই ঘিরে বুকভরা স্বপ্ন দেখি। তিনি আরো বলেন,উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা, তিস্তাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ নিক। সর্বনাশের প্রতীক নয়, সমৃদ্ধির ধারক হিসেবেই একদিন নতুন পরিচয়ে ফিরে আসুক তিস্তা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে