চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে শিশু শিক্ষার্থীদের স্বজন-সম্প্রীতির সম্পর্ক ও মনোবিকাশ স্থাপনের জন্য বনভোজনের আয়োজন করে উত্তর রহনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মমতাজ বেগম। গতকাল শনিবার পুনর্ভবা নদী ঘেঁষা রহনপুর পৌর এলাকার বাবুরঘোন মহল্লায় ওই শিক্ষিকার নিজ বাড়িতে এই আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী এই আয়োজনে সকাল থেকে ৬০ জন শিশু শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন। তারা বাড়ি থেকে কুরবানির মাংশ ও ১৫ টাকা করে চাঁদা দেন। তারা প্রতিভাবিকাশের জন্য কেরাত, গান,কবিতা,গজল, চিত্রাংকন, গম্ভীরাগানসহ নানা খেলাধুলায় অংশ নেন।
শিশু শিক্ষার্থীরা জানায়, তাদের প্রিয় শিক্ষিকা মমতাজ বেগমের কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে এই বনভোজন অংশ নিয়েছি। বাবা-মার কাছ ফ্রিজে রাখা কুরবানির মাংশ ও ১৫ টাকা করে নিয়ে এসেছি। বাড়িতে থাকা নতুন পোশাক পড়ে সেজে এসেজি। বেশিরভাগ অংশগ্রহণকারী শিশু ১ থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ুয়া। কয়েকজন মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সকলে মিলে সূরা পাঠ, কবিতা আবৃত্তি, গান, গজল, চিত্রাংকনসহ বিভিন্ন খেলায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে উৎসব ও উৎসাহের সঞ্চার ঘটে।
প্রথম শ্রেণির ছাত্রী মরিয়ম আক্তার জানান, বনভোজনে অংশ গ্রহণ করতে এসে ভাল লাগছে। তার পরিবারের কাছে অনুমতি নিয়ে এখানে এসেছি। বাড়িতে ফ্রিজে থাকা মাংশ ও ১৫ টাকা নিয়ে চাঁদা দিয়েছি। অনেক আনন্দ করেছি। সূরা,কবিতা ও গানে অংশ গ্রহণ করেছি। তাদেরকে অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়েছে মমতাজ ম্যাম। লামিয়া নামে আরেক শিক্ষার্থী জানান, এই রকম অনুষ্ঠানে অংশ নেননি। মেঝেতে সারি বদ্ধ ভাবে বসে সকলে খেয়েছি। সবারসঙ্গে বসে গল্প করেছি, সব ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি। অনেক মজা করেছি।
রিজভি নামে এক ছাত্র জানান, ম্যাডাম বিভিন্ন সময় নানা ধরণের অনুষ্ঠানে করে থাকে। কখন দেখতে বা অংশ নিতে পারেনি। এবার প্রথম এসেছি। খুব ভাল লাগছে। তাদেরকে কেরাত, গজল, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, গান, গম্ভীরা ও নাচে অংশ নিতে বলে। সকলেই মিলে অংশ গ্রহণ করেছি। ভূল হলে সবাই শিখিয়ে দিয়েছেন তিনি। প্রবীণ সাংবাদিক আতিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক মমতাজ বেগম সরকারী অনুষ্ঠানসহ পুরণো কৃষ্টিকালচার শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরে নানা আয়োজন করে থাকে। নবান্ন উৎসব, বিয়ের গীত, পিঠাপুলির, পোসালু, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেয়েরা নদী থেকে কলসী পানি আনাসহ নানা পূরণো সংস্কৃতি নতুনদের কাছে তুলে ধরে থাকেন। তার আয়োজনগুলো খুব প্রশংসনীয়।
আয়োজক মমতাজ বেগম বলেন, স্বজন-সম্প্রীতির ভাতৃত্ববোধের সম্পর্ক বন্ধন রাখতে ও মনোবিকাশ স্থাপনের জন্য এই আয়োজন। বিশেষ করে কুরবানীর তিনটি ফজিলত তাদের কাছে ধরার জন্য এই আয়োজন। তাদেরকে শিখিয়ে দেওয়া তার উদ্দেশ্য। এছাড়া তিনি নতুনদের কাছে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যগুলো তুলে ধরতে বিভিন্ন সময় অনুষ্ঠান করে থাকেন। তাকে পরিবারের লোকজনসহ প্রতিবেশীরা সহযোগী করে থাকেন। ভাল সহযোগিতা পেলে বড় পরিসরে এসব অনুষ্ঠান করতে চান বলে তিনি জানান।