তীব্র গরমে সিলেটে লোডশেডিং, বিউবোর ঘোষণা ঘিরে ক্ষোভ

এফএনএস (এইচ এম শহিদুল ইসলাম; সিলেট) : | প্রকাশ: ৪ জুলাই, ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম
তীব্র গরমে সিলেটে লোডশেডিং, বিউবোর ঘোষণা ঘিরে ক্ষোভ

তীব্র গরমের মধ্যেই শনিবার সকাল থেকে সিলেট নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কোথাও আধা ঘণ্টা, কোথাও এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরের ভেতর অসহনীয় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বাসাবাড়ির পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডও ব্যাহত হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো পূর্বঘোষণা বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা।

এদিকে সকাল থেকে লোডশেডিং চললেও বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) সিলেট তাদের ফেসবুক পেজে একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, "চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় বিকাল ৩টা ৫ মিনিট থেকে লোড শেডিং শুরু হয়েছে। আশা করা যায় শীঘ্রই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।"

তবে এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রাহকরা। অনেকেই মন্তব্য করেন, সকাল থেকেই যখন বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং চলছিল, তখন বিকেলে এসে লোডশেডিং শুরু হওয়ার ঘোষণা দেওয়াকে তারা দায়িত্বহীনতা হিসেবে দেখছেন। বিউবোর ওই পোস্টের মন্তব্যে মুক্তা হক নামে একজন লিখেছেন, "কারেন্ট থাকে কোন সময়। কারেন্ট থাকে নাতে আর নোটিশ দেওয়ার কাম কিতা।" মুহাইমিন খান লিখেছেন, "তোমারা কারেন্ট নেউ না, এমন একটা দিন দেখাউ। প্রতিদিন কারেন্ট নেউ, তোমরা একটু সময় এর লাগি কারেন্ট নেউ না, লং টাইম কারেন্ট নিয়া রাখ, কোনো নোটিশ ছাড়া, তোমরা গাইল দিলে ও কম অয় না, তোমারারেৃ. ঠিক অইতায় না।"

বদরুল আলম নামে আরেকজন মন্তব্য করেন, "আপনারা ঘোষণা দিয়ে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিন। আমরাও সবকিছু বাদ দিয়ে আদি মানুষের মত জংগলে চলে যাব।" পংকজ শর্মা লিখেছেন, "আপনারা তো প্রত্যেক শনিবারের সকাল ৭টা থেকে ৫টা পর্যন্ত কাজের অজুহাত থাকেই। সেটা বিগত কয়েকমাস থেকে দেখে আসছি।" এ ছাড়া পোস্টটিতে শতাধিক মন্তব্যে গ্রাহকরা নিয়মিত লোডশেডিং, পূর্বঘোষণার অভাব এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিশ্চয়তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেকেই অভিযোগ করেন, নির্ধারিত সময়সূচি ছাড়া বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ঘরের কাজ, অনলাইন কার্যক্রম, ব্যবসা ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিউবোর পক্ষ থেকে ফেসবুক পোস্টে সংক্ষিপ্ত ঘোষণার বাইরে লোডশেডিংয়ের সুনির্দিষ্ট কারণ, কোন কোন এলাকায় কতক্ষণ বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত থাকবে কিংবা কখন পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে। এসব বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। এদিকে দিনভর লোডশেডিংয়ের কারণে জনমনে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গ্রাহকদের দাবি, বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকলে আগেই নির্ভুল সময়সূচি প্রকাশ করতে হবে এবং হঠাৎ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার পরিবর্তে স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জনদুর্ভোগ কমাতে হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে