দীর্ঘ কারাবাস ও অর্থনৈতিক সংকট পেরিয়ে আবারও সক্রিয় আসলাম

এফএনএস (জহিরুল ইসলাম; সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম) : | প্রকাশ: ৫ জুলাই, ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম
দীর্ঘ কারাবাস ও অর্থনৈতিক সংকট পেরিয়ে আবারও সক্রিয় আসলাম

দীর্ঘ প্রায় নয় বছরের কারাবাস, একাধিক মামলার আইনি লড়াই এবং ব্যবসায়িক খাতে বড় ধরনের সংকটের সময় অতিক্রম করে আবারও উত্তর চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আসলাম চৌধুরী। দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর তার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুই ক্ষেত্রেই তার পুনরায় সক্রিয়তা উত্তর চট্টগ্রামে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একসময় উত্তর চট্টগ্রামের রাজনীতি ও ব্যবসা অঙ্গনের  পরিচিত মুখ ছিলেন আসলাম চৌধুরী। ২০১৩ সালের পরবর্তী রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের সময় সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, সন্দ্বীপ, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং মাঠভিত্তিক রাজনীতির কারণে তিনি দ্রুতই উত্তর চট্টগ্রামের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তবে ২০১৬ সালে গ্রেপ্তারের পর তার রাজনৈতিক জীবনে দীর্ঘ বিরতি নেমে আসে। পরবর্তী সময়ে ৭৬টি মামলায় জড়িয়ে তাকে দীর্ঘ ৯ বছর কারাগারে থাকতে হয়। এই দীর্ঘ সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তার গড়ে তোলা বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও নানা সংকটের মুখে পড়ে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, নেতৃত্বের অনুপস্থিতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা, আর্থিক চাপ এবং ব্যবস্থাপনা জটিলতার কারণে একসময়কার সক্রিয় ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অনেকাংশই দুর্বল হয়ে পড়ে। দীর্ঘ প্রতিকূল সময়ের পর কারামুক্ত হয়ে আবারও রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হয়েছেন আসলাম চৌধুরী। 

দলীয় সূত্রগুলোর মতে, উত্তর চট্টগ্রামে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা, তরুণ নেতৃত্বকে সামনে নিয়ে আসা এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন আসলাম চৌধুরী। তার প্রত্যাবর্তনে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে বলেও মনে করছেন তারা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে উত্তর চট্টগ্রামের রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিবর্তন এলেও আসলাম চৌধুরীর সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং তৃণমূল পর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা এখনো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে তার সক্রিয়তা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করতে পারে। এদিকে রাজনৈতিক কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যবসায়িক খাতেও নতুন করে মনোযোগ দিচ্ছেন তিনি। দীর্ঘদিন স্থবির হয়ে থাকা বিভিন্ন উদ্যোগ পুনর্গঠন এবং কর্মসংস্থানমুখী কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়ে কাজ চলছে বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘ কারাবাস ও অর্থনৈতিক সংকটের মতো কঠিন সময় অতিক্রম করার পর আসলাম চৌধুরীর পুনরায় সক্রিয় হওয়া শুধু ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তনের ঘটনা নয়, এটি উত্তর চট্টগ্রামের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনাও বটে। কর্মী-সমর্থকদের প্রত্যাশা, অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনসম্পৃক্ততাকে কাজে লাগিয়ে তিনি আগামী দিনে উত্তর চট্টগ্রামের রাজনীতিতে আরও কার্যকর ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে