ক্ষেতলালে ৯০ জাতের সরু ধানের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

এফএনএস (মোঃ হাসান আলী মন্ডল; ক্ষেতলাল, জয়পুর হাট) : | প্রকাশ: ৭ জুলাই, ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
ক্ষেতলালে ৯০ জাতের সরু ধানের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে চলতি বোরো মৌসুমে '৯০ জাতের' সরু ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে বর্তমানে এই ধানের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে ফুটে উঠেছে তৃপ্তির হাসি। 

উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে গিয়ে জানা যায়,  ৯০ জাতের প্রতি মণ সরু ধান বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৩১ শত (৩,১০০) টাকা পর্যন্ত।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ক্ষেতলাল উপজেলায় মোট আবাদযোগ্য ১২ হাজার হেক্টর জমিতে তিন ফসলি চাষাবাদ হয়ে থাকে। এর মধ্যে প্রায় ১০হাজার ৪০০হেক্টর জমিতে বোরো মৌসুমে ধান উৎপাদন হয় এবং বাকি ৩ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করা হয়। চলতি বোরো মৌসুমে অন্যান্য প্রচলিত জাতের ধানের পাশাপাশি কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে '৯০ জাতের' সরু ধানের চাষ করেন। মৌসুমের শুরুতে দাম কিছুটা কম থাকলেও বর্তমানে বাজারে এই ধানের রেকর্ড দাম মেলায় দারুণ খুশি স্থানীয় চাষিরা।

উপজেলার কুসুমশহর গ্রামের ধান চাষি আফতাব হোসেন সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এ বছর আমি ৯০ জাতের সরু ধান চাষ করেছিলাম। ফলন বেশ ভালো হয়েছে, বিঘাপ্রতি প্রায় ২০ থেকে ২১ মণ ধান পেয়েছি। মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ ধানের দাম ২৬ থেকে ২৭ শত টাকা থাকলেও, বর্তমানে বাজারে তা ৩ হাজার ৩১শত টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এই জাতের ধান চাষ করে আমরা বেশ লাভবান হয়েছি।

এদিকে ধানের বাজার দর ও চাহিদার বিষয়ে উপজেলার ইটাখোলা বাজারের বিশিষ্ট ধান ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন ও বদরুজ্জামান জাম্বু জানান, বাজারে আতপ জাতের সরু '৯০' ধানের চালের চাহিদা এখন আকাশচুম্বী। সাধারণ ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকায় দেশের বড় বড় অটো রাইস মিলগুলোতেও এই ধানের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। আর এ কারণেই বাজারে ধানের দামও ঊর্ধ্বমুখী। আরও চাহিদা অপুরনতা রয়েছে। মিলারদের চাহিদা মত ধান দিতে পারছিনা।

ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মল্লিকা রানী সেহানবীশ জানান, চলতি বোরো মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং রোগবালাইয়ের উপদ্রব কম হওয়ায় ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। তবে ৯০ জাতের সরু ধান রোপা আমন মৌসুমের ধান। কৃষকরা বোরো মৌসুমে রোপন করে ফলোন ভালো হওয়ায় কৃষক লাভবান হচ্ছে। 

তিনি আরও জানান,সরকার ইতিমধ্যে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে মোটা ধান প্রতি কেজি ৩৬ টাকা এবং আতপ ধান প্রতি কেজি ৪৮ টাকা সরকারি ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবে বাজারে সরু ধানের দাম আরও বেশি হওয়ায় কৃষকরা সরাসরি বাজারে ধান বিক্রি করেই বেশি লাভবান হচ্ছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে