দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারি বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ১৬ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। সংস্থাটি জানিয়েছে, কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রকাশিত বিশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে এসব জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিচু এলাকাগুলোর কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কাও রয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলেও আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। উত্তরাঞ্চলেও ঝুঁকি রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহানের সই করা পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এর প্রভাবে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের চট্টগ্রাম বিভাগে অতি ভারি বৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে সিলেট ও বরিশাল বিভাগেও ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরার উজান এলাকাতেও ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানির প্রবাহ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী চার দিন চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ এবং ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে নদীগুলোর পানির সমতল আরও বাড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি আপাতত বিপৎসীমার নিচে থাকলেও কয়েক দিন পর আবার বাড়তে পারে। গঙ্গার পানি কিছুটা স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, আর পদ্মার পানি আগামী কয়েক দিন কমতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের পরিস্থিতির প্রতি সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে।