বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে ১০ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে তারা দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও স্থানীয়দের দাবি, শুধু নিরাপত্তা বাড়ালেই হবে না-চিকিৎসক সংকট, শয্যা স্বল্পতা ও কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতিও দ্রুত দূর করতে হবে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ কে এম মনিরুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের ৫০০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিটিতে ১০ জন করে অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
তিনি বলেন, এ উদ্যোগের ফলে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরাপদ পরিবেশে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। পাশাপাশি রোগী ও তাদের স্বজনরাও অধিক নিরাপদ পরিবেশে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বাবুগঞ্জ উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। দেহেরগতি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামে অবস্থিত হাসপাতালটি কাগজে-কলমে ৫০ শয্যার হলেও বর্তমানে ৩১ শয্যার ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সংকট, জনবল ঘাটতি, প্রয়োজনীয় সেবা না পাওয়া এবং যাতায়াতের দুর্ভোগের কারণে ভোগান্তিতে রয়েছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, আনসার সদস্য মোতায়েন হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে স্বাস্থ্যসেবার প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, শয্যা সংখ্যা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু এবং আধুনিক চিকিৎসাসুবিধা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালের অবকাঠামো ও জনবল সংকট দূর করা গেলে বাবুগঞ্জ উপজেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মানে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।