১৮ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা, সতর্কতা জারি

এফএনএস প্রতিবেদক:
| আপডেট: ৯ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম | প্রকাশ: ৯ জুলাই, ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
১৮ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা, সতর্কতা জারি
ছবি, সংগৃহীত

টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় সংস্থাটি দেশের অন্তত ১৮ জেলায় সতর্কতা জারি করেছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত বন্যা পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়

এফএফডব্লিউসি জানায়, বর্তমানে বান্দরবানের সাঙ্গু, লামার মাতামুহুরী, মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই, হবিগঞ্জের খোয়াই এবং সিলেটের কুশিয়ারা নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী দুই দিনে সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগ এবং ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় আরও বাড়তে পারে। একই সময়ে ফেনী, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া ও হালদা নদীর পানি কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করতে পারে। এতে লক্ষ্ণীপুর ও নোয়াখালীর নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহের সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও ভোগাই-কংস নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কোথাও কোথাও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। পাশাপাশি আগামী তিন দিন সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার পানি বাড়তে থাকায় সিলেট ও সুনামগঞ্জে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

উত্তরাঞ্চলেও বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুরে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এছাড়া আগামী ৭২ ঘণ্টায় লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে, ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ২৯৮ মিলিমিটার, সুনামগঞ্জে ২৬৫ মিলিমিটার, নওগাঁর আত্রাইয়ে ২৬০ মিলিমিটার, লামায় ২০৭ মিলিমিটার, বান্দরবানে ১৯৬ মিলিমিটার, মহাদেবপুরে ১৯৩ মিলিমিটার এবং বরগুনায় ১৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয়ের মাউকিরওয়াতে ২৪৫ মিলিমিটার এবং চেরাপুঞ্জিতে ২২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে ১০টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর প্রভাবে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, ফেনী, খাগড়াছড়ি, লক্ষ্ণীপুর, নোয়াখালী, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রামসহ মোট ১৮ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি বা বিদ্যমান বন্যার অবনতি হতে পারে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানায় সংস্থাটি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে