লক্ষ্ণীপুরের কমলনগরে একটি কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কার্যালয়ে রাজনৈতিক দলের যোগদান অনুষ্ঠান আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে। হাজিরহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন মিলনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান উপলক্ষে বুধবার রাতে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, হাজিরহাট হামেদিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কার্যালয়ে আক্তার হোসেন মিলনের জামায়াতে যোগদান অনুষ্ঠান চলছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এ আর হাফিজ উল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবুল খায়ের, সাবেক আমির মাওলানা হুমায়ুন কবির, মাতাব্বরনগর দারুচ্ছুন্নাত আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আলী হোসেনসহ স্থানীয় জামায়াতের নেতারা। অনুষ্ঠানে সদস্য ফরম পূরণের মাধ্যমে আক্তার হোসেন মিলন জামায়াতে যোগ দেন এবং বক্তব্য দেন। ভিডিওতে অনুষ্ঠানটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা দেলোয়ার হোসাইনকে সঞ্চালনা করতে দেখা যায়।
জানা গেছে, আক্তার হোসেন মিলন একসময় জেএসডি এবং পরে বিকল্পধারা বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে হাজিরহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হন। পরে ২০২২ সালের সম্মেলনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও নির্বাচিত হননি। আওয়ামী লীগ ছেড়ে জামায়াতে যোগদানের বিষয়ে আক্তার হোসেন মিলন বলেন, আওয়ামী লীগে থাকাকালে তাকে জামায়াতপন্থী বলে মাঠে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। তাই তিনি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগ দিয়েছেন এবং মানুষের জন্য কাজ করতে চান। অন্যদিকে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন দাবি করেন, তার কক্ষে একটি দোয়ার অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে জামায়াত নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ওই সময় আক্তার হোসেন মিলন এসে জামায়াতে যোগ দেন। তবে ভিডিওতে অনুষ্ঠান পরিচালনায় তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবুল খায়ের আক্তার হোসেন মিলনের জামায়াতে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা অধ্যক্ষের কার্যালয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার কোনো বিধান নেই। কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাহাত উজ জামান বলেন, তিনি বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।