অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান কমাতে জোর দিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১৩ জুলাই, ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান কমাতে জোর দিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান প্রসব কমিয়ে স্বাভাবিক প্রসব বাড়াতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। এ জন্য এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা হাসপাতালে আধুনিক ল্যাব ও ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

সোমবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ব্র্যাক ও লেগো ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘সাসটেইনিং প্লে, লার্নিং অ্যান্ড স্কিলস ইন হিউম্যানিটারিয়ান কনটেক্সটস (স্প্ল্যাশ)’ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, “সিজারিয়ান সংস্কৃতি কমিয়ে স্বাভাবিক প্রসবের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। স্বাভাবিক প্রসব নিশ্চিত করা গেলে নবজাতক জন্মের পরপরই মায়ের শালদুধ পাবে। শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য শালদুধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ানের কারণে অনেক নবজাতক জন্মের পরপরই এই গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, দেশে সিজারিয়ান প্রসবের হার বেড়ে যাওয়ার পেছনে একটি দালাল চক্র কাজ করছে। “সিজারিয়ান অপারেশন একটি দালাল চক্রের হাতে চলে যাচ্ছে। তারা আমাদের মায়েদের এমন চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে যায়, যাঁরা সিজারিয়ান অপারেশন করেন।” এই প্রবণতা বন্ধ করে নিরাপদ স্বাভাবিক প্রসব নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার নারী থাকবেন। তারা কেয়ারগিভার ও মিডওয়াইফ হিসেবে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে গর্ভবতী নারীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সেবা দেবেন।

তিনি বলেন, চলতি বছরের মধ্যেই দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে আধুনিক প্যাথলজি ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং চলতি মাসেই দরপত্র আহ্বান করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি, জেলা হাসপাতালে ১০টি এবং উপজেলা হাসপাতালেও ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে স্তন ও জরায়ুমুখ ক্যানসার স্ক্রিনিং কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি আরও জোরদার করার উদ্যোগের কথাও জানান মন্ত্রী। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে গ্রামীণ পর্যায়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সহজলভ্যতা আবারও নিশ্চিত করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, মানবিক সংকটে থাকা শিশুদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে খেলাভিত্তিক শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং প্রারম্ভিক শিশুবিকাশে কাজ করছে ব্র্যাক। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদি ‘স্প্ল্যাশ’ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও উগান্ডার চার লাখ শিশু খেলাভিত্তিক শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পাবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে