স্ট্যাটাসকোর সুযোগ নিয়ে মাছের ঘেরে হামলার অভিযোগ

এফএনএস (এস.এম. শহিদুল ইসলাম; সাতক্ষীরা) : | প্রকাশ: ১৮ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম
স্ট্যাটাসকোর সুযোগ নিয়ে মাছের ঘেরে হামলার অভিযোগ

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার চণ্ডীপুর মৌজায় দীর্ঘ চার দশকের পুরোনো জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে হাইকোর্টের ‘স্ট্যাটাসকো’র সুযোগ নিয়ে মাছের ঘেরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এতে লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী দুলালী তরফদার। এ ঘটনায় পুনরায় হামলা ও প্রাণনাশের আশঙ্কায় তিনি আগেই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।

নথিপত্র ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিরোধপূর্ণ ১ দশমিক ৪৫ একর জমিটি নিয়ে ১৯৭৯ সাল থেকে বিরোধের সূত্রপাত। জমির মূল মালিক দীনদয়াল তরফদার জমিটি মীরা তরফদারের কাছে বন্ধক রেখে ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে উত্তরাধিকার সূত্রে পুত্রবধূ দুলালী তরফদার ১৯৮৮ সালে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে জমির মালিকানা লাভ করেন। ১৯৯৭ সালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদালতের রায়ের পর সরকারি প্রক্রিয়ায় ঢোল-সহরতের মাধ্যমে দুলালী তরফদারকে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে গত ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি সেখানে শান্তিপূর্ণভাবে মাছের ঘের পরিচালনা করছেন।

ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, এই রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ মীরা তরফদার নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে মামলা ও আপিল করলেও প্রতিটি ক্ষেত্রে রায় দুলালী তরফদারের অনুকূলেই থাকে। জমির নামজারি, খাজনা ও সর্বশেষ বিএস খতিয়ানও তার নামেই চূড়ান্ত হয়েছে। তবে বিএস খতিয়ান প্রকাশের আগে মীরা তরফদার হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করলে আদালত স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাসকো) বজায় রাখার আদেশ দেন। বাদীপক্ষের দাবি, বিএস খতিয়ান চূড়ান্ত হওয়ায় রিটটি কার্যকারিতা হারালেও শুনানির তারিখ পেছানোয় চূড়ান্ত নিষ্পত্তি থমকে আছে।

অভিযোগ উঠেছে, এই স্থিতাবস্থার আদেশকে নিজেদের পক্ষে রায় দাবি করে প্রতিপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল। এ কারণে গত ৩০ এপ্রিল শ্যামনগর থানায় জিডি করেন দুলালী তরফদার। এরপরও গত ১৫ জুলাই দিবাগত রাতে মনোরঞ্জন তরফদারের ছেলে শংকর তরফদার ও তার সহযোগীরা মাছের ঘেরে প্রবেশ করে নেট, পাটা কেটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি চালায়। উল্টো পরদিন শংকর তরফদার থানায় ঘেরের দখল না পাওয়ার অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৭ জুলাই শ্যামনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে এবং বর্তমানে যার দখলে ঘের রয়েছে, তার কাজে বাধা সৃষ্টি না করার নির্দেশ দেয়। তবে অভিযুক্ত শংকর তরফদার ভাঙচুর ও ঘের দখলের চেষ্টার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দীর্ঘদিনের এই বিরোধের কারণে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ এবং হাইকোর্টে বিচারাধীন রিট মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে