আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধে ফাটল ও ধস নেমেছে। জরুরী ভিত্তিতে সংস্কার না করলে বাঁধ ভাঙার আশংকা রয়েছে।আতংকে রয়েছে বড়দল ও খাজরা ইউনিয়নের মানুষ।
উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও বড়দল ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী আজাহারুল ইসলাম মন্টু মোল্যা জানান, বড়দলের শেষ মাথায় এবং খাজরা ইউনিয়নের সীমানার শুরুতে জনাব আলী সরদারের কানা খোলপেটুয়া নদীর বাঁধ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আমি শুক্রবার রাতে এবং পরদিন সকালে স্থানীয় লোকজন নিয়ে ফাটল স্থানে লোকজন নদীতে নামিয়ে দেই। সেখানে নেমে তারা দেখে তলায় ধস নেমে নদী গর্ভে চলে গেছে। যে কোন সময় বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে খাজরা ও বড়দল ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। দ্রুত বাঁধ সংস্কার না করলে বড়দল ইউনিয়নের বড়দল, দক্ষিণ বড়দল, পাঁচ পোতা, বাইনতলা, মাদিয়া, জেলপাতুয়া, মুরারিকাটি, কদমতলা, ঘুঘুমারি, বুড়িয়া, ফকরাবাদ, বামনডাঙ্গা, গোয়ালডাঙ্গা ও খাজরা ইউনিয়নের খাজরা, লাউতাড়া, ফটিকখালী, পিরোজপুর ও তুয়ারডাঙ্গা সহ আরও অনেক গ্রামে নদীর পানি প্রবেশ করবে। তিনি বাঁধটি দ্রুত সংস্কারের জন্য জেলা বিএনপির আহবায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশ, সাবেক এমপি কাজী আলাউদ্দিন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ উর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
সমাজ সেবক সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম শরিফ জানান, গতবছর লোনা পানি প্রবেশ করে খাজরা ও বড়দল ইউনিয়নের ১২টি গ্রামে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিলো। এতে প্রায় ১০ হাজার বিঘা জমিতে আমন ধানের ফসল ফলাতে পারেনি এলাকার এক ফসলি কৃষকরা। জরুরী ভিত্তিতে বাঁধ সংস্কার না করলে বড়দল ও খাজরা ইউনিয়নের শত শত গ্রাম, হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি এবং মৎস্য ঘের তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও নদীর স্বাভাবিক জোয়ারের চাপে এলাকার বাঁধগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তিনি স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
পাউবোর এসও আলমগীর কবির বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। ছেলের চিকিৎসার কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনি এসডির সাথে কথা বলতে বলেন। এ বিষয়ে কথা বললে, সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসডি (আশাশুনি) রাশিদুল ইসলাম ছবি এবং ভিডিওতে ভাঙ্গনের দৃশ্য দেখেন এবং দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন এবং দ্রুত সংস্কারের জন্য কাজ করার আশ্বাস দেন।