সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচটা হয়েছে রানবন্যার। বেন ডাকেটের সেঞ্চুরির জবাবে সেঞ্চুরি হাঁকালেন রোহিত শর্মাও। ইংল্যান্ডের চারশ ছুঁইছুঁই পুঁজির জবাবে সাড়ে তিনশ পার করলো ভারতও। তবে শেষ হাসিটা হেসেছে ইংল্যান্ডই। ২৭ রানের জয়ে সিরিজ জিতে নিয়েছে ২-১ ব্যবধানে। লন্ডনের লর্ডসে টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড। দুই ওপেনার বেন ডাকেট এবং জ্যাকব বেথেলের ব্যাটে ভর করে উড়ন্ত সূচনা পায় ইংলিশরা। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে এগিয়েছেন দুই ওপেনার। ডাকেট-বেথেল ছিলেন দারুণ সাবলীল। এগিয়েছেন ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে। দুজনের ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ে চিড়েচ্যাপ্টা হয়েছে ভারতের বোলিং। দুই ওপেনারই ছুঁয়েছেন ফিফটি। ফিফটির পরেও চলেছে দুজনের উইলোবাজি। উইকেটের চারপাশে দারুণ সব শটে রান বের করেছেন ডাকেট এবং বেথেল। ভারতের বোলারদের কোনো সুযোগই দিচ্ছিলেন না। এগিয়েছেন কার্যকরী ব্যাটিংয়ে। দুজনের জুটি একশ পেরিয়েছে। পার করে ফেলে দেড়শ রানও। তবুও যেন তাদেরকে ঠেকাতে পারছিল না কেউ। ভারতের বোলারদের কচুকাটা করে রান তুলেছেন ডাকেট-বেথেল। দুজনের রকেটগতির ইনিংসে ফুলেফেঁপে উঠেছে ইংল্যান্ডের ইনিংস। ওপেনিং জুটিতে এসেছে ১৯২ রান। সেঞ্চুরির খুব কাছে গেলেও সেঞ্চুরি মিসের আফসোসে পুড়েছেন জ্যাকব বেথেল। ৯৩ বলে ৯১ রান করা বেথেলকে ফিরিয়ে ভারতকে ব্রেক থ্রু এনে দেন প্রসিধ কৃষ্ণা। বেথেল সেঞ্চুরি মিস করলেও ডাকেট ঠিকই সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। সেঞ্চুরির পরেও চলেছে ব্যাটিং তাণ্ডব। তিনে নেমে রানের উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন জো রুটও। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে রান বের করেছেন ডাকেট-রুট। সেঞ্চুরি হাঁকানো বেন ডাকেট ১৩৫ বলে ১৪১ রানের টর্নেডো এক ইনিংস খেলে দলের ২৯৩ রানের মাথাতে থেমেছেন। রুট ছুটে চলেছেন। ছুঁয়ে ফেলেছেন ফিফটিও। চারে নামা অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ১২ বলে ১৪ রানের ক্যামিও খেলে বিদায় নেন। শেষ দিকে রুটের সাথে যোগ দেন জস বাটলার। দুজনের মারকাটারী ব্যাটিংয়ে সাড়ে তিনশ পার করেছে ইংল্যান্ড। শেষ দিকে চারশর খুব কাছেও চলে যায় ইংলিশরা। নির্ধারিত ৫০ ওভারের খেলা শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ৩৮৭ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় ইংল্যান্ড। ৪৮ বলে ৭৪ রান করে টিকে ছিলেন রুট। ১৩ বলে ৪১ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন জস বাটলার। ভারতের হয়ে ২ উইকেট শিকার করেছেন প্রসিধ কৃষ্ণা। ১ উইকেট নেন প্রিন্স যাদব। জবাব দিতে নেমে ভারতকে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন দুই ওপেনার রোহিত শর্মা এবং শুবমান গিল। অবসরের গুঞ্জন, ফর্মও পড়তির দিকে, রোহিতকে নিয়ে ম্যাচ শুরুর আগে হাহাকার পড়ে গিয়েছিল। সবাইকে চোখে আঙুল দিয়ে যেন নিজের কারিশমা দেখালেন হিটম্যান। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে জবাবটা দিয়েছেন একদম ক্ল্যাসিকাল রোহিত শর্মা স্ট্রাইলে। শুরু থেকেই আগ্রাসনে ছুটেছে রোহিতের ইনিংস। আরেক প্রান্তে সাবলীল ছিলেন শুবমান গিলও। ফিফটি ছুঁয়েছেন দুজনই। ফিফটির পরেও চলেছে উইলোবাজি। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে ওপেনিং জুটিতে ১৪৭ রান তোলেন গিল-রোহিত। ৮৪ বলে ৭৭ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে যান গিল। এরপর রোহিতের সাথে যোগ দিয়েছেন আরেক ব্যাটিং গ্রেট বিরাট কোহলি। রোহিত-কোহলির সাবলীল ব্যাটিংয়ে ভালোভাবেই এগিয়েছে ভারতের ইনিংস। দুজনের কার্যকরী এবং কৌশলী ব্যাটিংয়ে তখনও ভালোভাবেই রান তাড়া করছিল ভারত। রোহিত ছুঁয়েছেন সেঞ্চুরি। তিন অঙ্ক ছুঁয়েও কিছুক্ষণ তাণ্ডব চালালেন। দলের ২৬০ রানের মাথাতে ১১০ বলে ১৩৮ রানের ঝলমলে এক ইনিংস খেলে বিদায় নেন রোহিত শর্মা। রোহিতের বিদায়ের পর চারে নামেন ঈশান কিষাণ। ১২ বলে ১৪ রান করে বিদায় নেন ঈশান। এরপর পাঁচে নেমে ৩ বলে ০ রান করে আউট হন শ্রেয়াস আইয়ার। চাপ বাড়তে থাকে ভারতের। সেট ব্যাটার হিসেবে ক্রিজে টিকে ছিলেন বিরাট কোহলি। ফিফটি ছুঁয়েছেন। শেষ দিকে তার কাঁধেই ছিল দলকে জেতানোর বড় দায়িত্ব। তবে শেষটা সেভাবে রাঙাতে পারলেন না কোহলি। ৬০ বলে ৭৪ রানের ইনিংস খেলে দলের ৩১৫ রানের মাথাতে থেমেছেন বিরাট কোহলি। সেখানেই যেন জয়ের আশা শেষ হয়েছে ভারতের। এরপর আউট হয়েছেন লোকেশ রাহুল, অক্ষর প্যাটেলরা। শেষ দিকে ১৪ বলে ১৮ রান করে টিকে ছিলেন গুরনুর ব্রার। ৬ বলে ১৫ রান করে অপরাজিত ছিলেন আর্শদ্বীপ সিং। ৫০ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩৬০ রান তুলে থামে ভারত। ইংল্যান্ড পেয়েছে ২৭ রানের জয়। ইংলিশদের হয়ে ৪ উইকেট তুলেছেন স্যাম কারান। এছাড়া ১টি করে উইকেট শিকার করেছেন জ্যাকব বেথেল, জফরা আর্চার এবং আদিল রশিদ। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটা ২-১ ব্যবধানে জিতলো ইংল্যান্ড।