দেশের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রথম শ্রেণির পৌরসভা সৈয়দপুরে নিয়মিত পৌরকর পরিশোধে অনেক নাগরিকের অনীহা দেখা দিয়েছে। ফলে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় সড়ক উন্নয়ন, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কবাতি, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য নাগরিক সেবামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে বাধার মুখে পড়ছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
১৯৫৮ সালের ৯ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত সৈয়দপুর পৌরসভা বর্তমানে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভা হিসেবে পরিচিত। ১৫টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই পৌরসভা। লোকসংখ্যা ৪ লাখের বেশি।
রেল, সড়ক ও বিমান যোগাযোগের কারণে উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।
পৌর প্রশাসক ও সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা জানান, পৌর নাগরিকদের নিয়মিত কর পরিশোধের ওপরই পৌরসভার নিজস্ব আয়ের বড় অংশ নির্ভরশীল। কিন্তু উল্লেখযোগ্যসংখ্যক হোল্ডিং মালিক বছরের পর বছর পৌরকর বকেয়া রাখছেন। এতে উন্নয়ন প্রকল্পে স্থানীয় অর্থায়ন সংকুচিত হচ্ছে এবং অনেক প্রয়োজনীয় কাজ সময়মতো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।
পৌরবাসীর অভিযোগ, তারা নিয়মিত কর পরিশোধ করলেও কিছু করদাতা দীর্ঘদিন বকেয়া রেখেও বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা ভোগ করছেন। এতে নিয়মিত করদাতারা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। তাদের মতে, কর আদায়ে আরও কার্যকর উদ্যোগ এবং বকেয়া আদায়ে তৎপর প্রয়োজন।
সৈয়দপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলি আব্দুল খালেক ও হিসাব রক্ষক আবু তাহের বলেন, একটি আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তুলতে নাগরিকদের কর পরিশোধের বিকল্প নেই। করের অর্থ দিয়েই রাস্তা-ঘাট সংস্কার, ড্রেন নির্মাণ, মশক নিধন, বর্জ্য অপসারণ, স্ট্রিট লাইট রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, উন্নত নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে পৌরসভার আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি। আর সে জন্য সকল হোল্ডিং মালিককে সময়মতো পৌরকর পরিশোধে এগিয়ে আসতে হবে।
উল্লেখ্য, সৈয়দপুর পৌরসভা ১৫টি ওয়ার্ড নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পৌর এলাকা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক সেবা দিয়ে আসছে।