ভিডিও ভাইরাল ও বিয়ে নিয়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপিকে ঘিরে বিতর্ক

এফএনএস (এস.এম. শহিদুল ইসলাম; সাতক্ষীরা) : | প্রকাশ: ২১ জুলাই, ২০২৬, ০১:৩০ পিএম
ভিডিও ভাইরাল ও বিয়ে নিয়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপিকে ঘিরে বিতর্ক

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে চরম বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সোমবার রাতে ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর শুরু হয় নানা আলোচনা ও সমালোচনা। এর মধ্যে ওই সংসদ সদস্যের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীর একটি জীবনবৃত্তান্ত প্রকাশ্যে আসায় বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে।

ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে অবস্থান করছেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। কখনো তিনি ফোনে কথা বলছেন, আবার কখনো তাকে ওই নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যাচ্ছে।

ভিডিওটি প্রকাশের পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল পরিচালনাধীন ‘ক্রাইম বার্তা’ দাবি করে, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি ভুয়া দৃশ্য। তবে ফ্যাক্ট-চেকিং বা তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘বেঙ্গল লেন্স’ অনুসন্ধানের পর জানায়, ভিডিওটি এআই দিয়ে বানানো নয়, এটি আসল। সিসিটিভি ফুটেজের সময় উল্লেখ (টাইমস্ট্যাম্প) অনুযায়ী ভিডিওটি ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ধারণ করা হলেও এটি কোন স্থানের, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভিডিওর বিষয়ে কথা বলতে সংসদ সদস্যের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান মাওলানা আজিজুর রহমান জানান, এমপি তাকে অবহিত করেছেন যে ভিডিওতে দৃশ্যমান তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই তাদের বিয়ে হয়েছে। বিয়ে কবে হয়েছে-জানতে চাইলে জামায়াতের এই নেতা জানান, সুনির্দিষ্ট তারিখ জানা না থাকলেও বিয়েটি বেশ কিছুদিন আগেই সম্পন্ন হয়েছে।

তবে ঘটনার মোড় অন্যদিকে ঘোরে যখন কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের একটি জীবনবৃত্তান্ত (বায়োডাটা) সামনে আসে। গত ২২ জুন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম সেই জীবনবৃত্তান্তে জোর সুপারিশ করে নিজের স্বাক্ষর প্রদান করেন। জীবনবৃত্তান্তে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মরিয়ম খাতুন ২০০৮ সালের ২২ মে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০২৬ সালে ঢাকা বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষায় অংশ নেন। পরিবারের ঠিকানা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার বিস্তারিত বিবরণের পাশে তার বৈবাহিক অবস্থার ঘরে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, তিনি ‘অবিবাহিত’।

এদিকে বিতর্কের মুখেই ২১ জুলাই নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি বিবৃতি দিয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। পাঠকদের জন্য তার মূল বক্তব্য নিচে তুলে ধরা হলো:

সংসদ সদস্য লেখেন, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী মোছাঃ মাকছুদা বেগম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মোছাঃ মরিয়াম বেগমকে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে শ্বশুরের ব্যবসায়ী কার্যালয়ে যান। সেখানে থাকা অবস্থায় তার গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ কয়েকজন বহিরাগতকে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করে তাদের জিম্মি করে টাকা আদায় করে এবং পরে আরও কয়েক লাখ টাকা দাবি করে হুমকি দেয়।

তিনি অভিযোগ করেন, শ্বশুরের সঙ্গে ড্রাইভার ওবায়দুল্লাহর পারিবারিক বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটানো হয় এবং ওবায়দুল্লাহই তাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

সংসদ সদস্য দাবি করেন, ২০১৬ সালের ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। ঘটনাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে দাবি করে তিনি এ ঘটনার দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি শাস্তির দাবি জানান।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে