সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াত দলীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক নারীর ব্যক্তিগত যে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, সেটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি নয়, বরং আসল বলে জানিয়েছে ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভিডিওটিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার বা ডিজিটাল কারসাজির কোনো সুস্পষ্ট আলামত নেই। দীর্ঘ ভিডিওটিতে দৃশ্যগত কোনো অসামঞ্জস্যও পাওয়া যায়নি। অডিও বিশ্লেষণেও কোনো অসংগতি ধরা পড়েনি। ভিডিওটির বিভিন্ন উপাদান পৃথকভাবে বিশ্লেষণ করে এটিকে বাস্তব ভিডিও হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠানটি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এটিকে এআই দিয়ে তৈরি ও ভুয়া বলে দাবি করে বিভিন্ন পোস্ট দেওয়া হয়। সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল-সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ‘ক্রাইম বার্তা’র পক্ষ থেকেও ভিডিওটি কৃত্রিম বলে দাবি করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্লেষণে ভিডিওটি আসল বলে উঠে আসে।
ভাইরাল ভিডিওতে একজন নারী ও একজন পুরুষকে একটি কক্ষে অবস্থান করতে দেখা যায়। ভিডিওটির কিছু অংশে ওই পুরুষকে ফোনে কথা বলতে এবং কিছু অংশে ওই নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। সিসিটিভি ফুটেজে থাকা টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী, ভিডিওটি ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ধারণ করা হয়েছিল। তবে ঘটনাস্থল সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভিডিওটি আসল বলে তথ্য যাচাইয়ের পর জামায়াতের পক্ষ থেকে ওই নারীকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করা হয়। দলটির মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, “এমপি সাহেব আমাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এ বিয়ে হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, বিয়েটি বেশ কিছুদিন আগে হয়েছে বলে তারা জেনেছেন। তবে বিয়ের সুনির্দিষ্ট তারিখ তার জানা নেই।
এদিকে গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এক ভিডিও বার্তায় দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে কুৎসা রটানোর অভিযোগ তুলে বলেন, এ ধরনের অপপ্রচার বন্ধ না হলে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন।
পৃথক এক ভিডিও বার্তায় ওই তরুণীর বাবা দাবি করেন, ১৭ জুন তার বড় মেয়ের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে হয়েছে। বিয়েতে এমপির প্রথম স্ত্রীসহ উভয় পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ওই তরুণীও এক ভিডিও বার্তায় তাদের বিয়েকে বৈধ দাবি করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে তাদের সম্মানহানি ও সামাজিকভাবে হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগত ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় একটি কথিত কাবিননামার কপিও সামনে এসেছে। তবে নথিটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।