খুলনার পাইকগাছা পৌরসভার হাসপাতাল মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে আরএফএল কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি বিশ্বজিৎ দেয়ারীর (৩৫) রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকে তাঁর কক্ষে থাকা সহকর্মী ও টেকনিশিয়ান অন্তর সরকার নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় বুধবার নিহতের মামা বিপুল সরকার বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
নিহত বিশ্বজিৎ ঝালকাঠি সদর উপজেলার বেত্রা গ্রামের হরলাল দেয়ারীর ছেলে এবং আরএফএল-এর ভিগো গ্রুপের কর্মরত ছিলেন। সহকর্মী অন্তর সরকার মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার লিটন সরকারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্বজিতের আরেক সহকর্মী নয়ন রায় মুঠোফোনে তাঁদের না পেয়ে ওই ভাড়া বাসায় যান। সেখানে দরজায় তালাবদ্ধ অবস্থায় এবং সামনে রক্তমাখা একটি ছুরির খাপ পড়ে থাকতে দেখে তিনি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (ডি সার্কেল) আমির হামজা ও পাইকগাছা থানার ওসি জুলফিকার আলীর নেতৃত্বে পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে সিআইডির ফরেনসিক দল এসে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশ ও বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
ভাড়া বাসার মালিক রামপ্রসাদ মণ্ডল জানান, প্রায় এক মাস আগে বিশ্বজিৎ ও অন্তর তার বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষ ভাড়া নেন। স্থানীয়দের ধারণা, সোমবার গভীর রাতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। ঘটনার পর থেকেই অন্তর সরকার কক্ষে তালা দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যান। পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী বলেন, নিহত বিশ্বজিতের লাশ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তার পরিবারকে খবর দেয়া হলে মামা বিপুল সরকার ঘটনাস্থলে এসেছেন। তিনি লাশ বুঝে নিবেন। ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং নিখোঁজ অন্তর সরকারকে খুঁজে বের করতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।