আলোকিত সমাজ গঠনে বই পড়ার বিকল্প নেই: বিভাগীয় কমিশনার

এফএনএস (মমিনুল ইসলাম রিপন; রংপুর) : | প্রকাশ: ২৫ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম
আলোকিত সমাজ গঠনে বই পড়ার বিকল্প নেই: বিভাগীয় কমিশনার

একটি জ্ঞানভিত্তিক, প্রগতিশীল ও আলোকিত সমাজ গঠনে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে নতুন প্রজন্ম ও শিশু-কিশোরদের বইয়ের সান্নিধ্যে ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় জ্ঞানের আলো পৌঁছে দিতে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রংপুর বিভাগীয় গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘বিভাগীয় পাঠক সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (তৃতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে রংপুর বিভাগের আট জেলা থেকে আসা আটটি বিশেষায়িত ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি-গাড়ি এবং প্রায় পাঁচ শতাধিক নিবন্ধিত পাঠক-সদস্য অংশ নেন। দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল বর্ণাঢ্য র‌্যালি, ভ্রাম্যমাণ বইমেলা, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও জিআই পণ্যভিত্তিক স্টল প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ।

জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও ‘দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (তৃতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মু. বিল্লাল হোসেন খান। গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের পরিচালক (উন্নয়ন ও আইসিটি) স্বাগত বক্তব্য দেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম বলেন, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি প্রকল্প প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় জ্ঞানের আলো পৌঁছে দিয়ে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করছে। সরকার শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক বিকাশে অঙ্গীকারবদ্ধ। বিশেষ করে নারী ও শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল চিন্তার বিকাশে দেশের ৭৬টি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, রংপুর বিভাগের আট জেলায় পরিচালিত এ কার্যক্রম পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পাঠক সমাবেশে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই প্রমাণ করে, প্রযুক্তিনির্ভর সময়েও বইয়ের আবেদন অমলিন। সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন বলেন, বিভাগীয় পাঠক সমাবেশ রংপুরের বইপ্রেমীদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের যৌথ প্রয়াসে দেশের ৬৪ জেলায় ৩ হাজার ২০০টি স্পটে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি সেবা চালু রয়েছে। তরুণ সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং অপসংস্কৃতি দূর করতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও বলেন, পাঠক বৃদ্ধি ও সাংস্কৃতিক চর্চার এ মহৎ উদ্যোগকে সফল করতে রংপুর জেলা প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। বই মানুষকে উদার করে এবং কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠনে সহায়তা করে। ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির এ ‘আলোর রথ’ অবিরাম এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সহযোগিতায় পরিচালিত ‘দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (তৃতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে ৭৬টি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি-গাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে রংপুর বিভাগে রয়েছে আটটি। প্রকল্পটি দেশের ৬৪ জেলা ও ৩৬৮ উপজেলায় নির্ধারিত ৩ হাজার ২০০টি স্পটে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সপ্তাহে ছয় দিন, প্রতিদিন ন্যূনতম আট ঘণ্টা করে সেবা দেওয়া হয়। প্রতিটি গাড়ি সপ্তাহে ৪০ থেকে ৪২টি স্পটে সেবা দেয়। প্রকল্পটির প্রত্যাশিত উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার, যাদের মধ্যে নারী ও শিশু-কিশোরদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৭০০টি সাংস্কৃতিক সংঘ পরিচালনা এবং ৮ হাজারটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী পাঠক-সদস্যদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে