ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে চলছে বিদ্যুতের ভেলকিবাজি। গত কয়েকদিন ধরে গরমের সঙ্গে তীব্র হয়ে উঠেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অসহনীয় লোডশেডিং।এতে অতিষ্ঠ নাসিরনগর উপজেলাবাসী। ফলে সাধারণ মানুষ পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। বিঘ্নিত হচ্ছে এলাকাবাসীর দৈনন্দিন জীবন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ ঝাড়ছেন অনেকেই। বিষয়টি স্বীকার করে বিদ্যুৎ অফিস কর্তৃপক্ষ জানায়, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ তিন ভাগের এক ভাগে নেমে আসায় লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। কেবলমাত্র নাসিরনগর উপজেলা সদরে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও গ্রাম অঞ্চল গুলোর অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। বেশিরভাগ সময় থাকে না বিদ্যুৎ। কোথাও এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর পর দেওয়া হয় বিদ্যুৎ। আবার কখনোও টানা ঘন্টার পর ঘণ্টা থাকে না বিদ্যুৎ। এতে চরম দুর্ভোগে রয়েছে সাধারণ মানুষ। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসা বাড়ি ও বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি অফিসে নষ্ট হচ্ছে কর্ম ঘণ্টা। বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকলে ইন্টারনেট সেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে।
এদিকে ঘন ঘন লোডশেডিং হলেও গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল আসছে বেশি। এ নিয়ে রয়েছে গ্রাহকদের অনেক অভিযোগ। তাছাড়া ঝড়-বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ না থাকা স্বাভাবিক ঘটনা হলেও, আকাশে মেঘ উঠতেই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সাংস্কৃতি চালু রয়েছে নাসিরনগরে। ঝড়বৃষ্ঠির রাতে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হলে আর চালু হওয়ার কোনো আশাই থাকে না। ফলে বিদ্যুৎ নিয়ে ধোঁয়াশা আর ভোগান্তির মধ্যে আছেন নাসিরনগরবাসী। সব মিলিয়ে বিদ্যুতের একটানা বেহাল দশায় গ্রাহকরা বলছেন বিদ্যুতের ভেলকিবাজি আমাদের সহ্যসীমা অতিক্রম করেছে। ঘন ঘন বিদ্যুত আসা যাওয়ার কারণে অনেকের ফ্রিজ, টেলিভিশন, ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া অসহ্য গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন গ্রাহকরা।
এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে গ্রাহকরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবার দাবি করে আসলেও ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলছে না গ্রাহকদের।
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ নাসিরনগর জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. বাচ্চু মিয়া জানান- জাতীয় উৎপাদন সংকটের কারনেই লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়েছে, নাসিরনগর উপজেলায় প্রতিদিন আমাদের চাহিদা প্রায় ২৫ মেঘাওয়াট কিন্তু আমাদেরকে ৭-৮ মেঘাওয়াটের চাইতেও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে যে কারনে লোডশেডিংয়ের পরিমাণটা একটু বেশি হচ্ছে। এছাড়া তিনি জানান, গত দুইদিন পূর্বে ভুলতা গ্রীডের কাছাকাছি ভুলতা টু নরসিংদী ১৩২ কেভি লাইনের ওয়াই ফেজের কন্ডাক্টর ছিড়ে যাওয়ায় বিকল্পভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদী জেলায় অর্ধেক লোড সরবরাহ কম হচ্ছে তাই লোডশেডিং করে চালাতে হচ্ছে। পাওয়ার গ্রীড কর্তপক্ষ সর্বাত্বক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দ্রুত লাইন চালু করতে। খুব দ্রুতই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তাই পল্লী বিদ্যুৎ নাসিরনগর জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. বাচ্চু মিয়া সকল গ্রাহকের প্রতি দুঃখপ্রকাশ এবং ধৈর্য্য ধারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।