সুন্দরবনের ৯ খালের মুখে কাঠের বেষ্টনী, টহলে ড্রোন, কমছে অপরাধ

এফএনএস (সাবেরা ঝর্ণা; শরণখোলা, বাগেরহাট) :
| আপডেট: ২৭ জুলাই, ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম | প্রকাশ: ২৭ জুলাই, ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
সুন্দরবনের ৯ খালের মুখে কাঠের বেষ্টনী, টহলে ড্রোন, কমছে অপরাধ

পূর্ব সুন্দরবনের গভীরে অপরাধীদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে জালের মতো ছড়িয়ে থাকা শাখা-প্রশাখা খালগুলোর ৯টি প্রধান সংযোগ পথে কাঠের বেষ্টনী তৈরি করে সিলগালা করেছে বন বিভাগ। পাশাপাশি অল্প সময়ে বিস্তীর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণে নিয়মিত টহলে ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। এই দুই পদক্ষেপে বিষ দিয়ে মাছ শিকার ও হরিনসহ বন্যপ্রাণী শিকারিদের অবৈধ প্রবেশ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে বলে বন বিভাগ জানিয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসের নিষেধাজ্ঞাকালে অসাধু জেলে ও শিকারিরা যাতে গভীর বনে ঢ়ুকে বিষ দিয়ে মাছ শিকার এবং মাছের পোনা নিধন করতে না পারে, সেজন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শরণখোলা রেঞ্জে বেষ্টনী দেওয়া খাল দুটি হলো ভোলা খাল ও দাসের বাড়ানি (ডাকাতের) খাল। চাঁদপাই রেঞ্জে বেষ্টনী দেওয়া খালগুলো হলো মরা ভদ্রার ভাড়ানি, জিয়ার ভাড়ানি, নওশের আলী ভাড়ানি, সূর্যমুখী খাল, ঢাংমারী স্টেশনের হুলার ভাড়ানি, করমজল স্টেশনের চারা খালি এবং ৮ নম্বর খালেকের ভাড়ানি। শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (সহকারী বন সংরক্ষক) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, 'অসাধু চক্রের যাতায়াত বন্ধ করতে এই রেঞ্জের দুটি খালের মুখে বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। এতে মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত হবে এবং বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উৎপাদন বাড়বে। অন্যদিকে, অল্প সময়ে বড় এলাকা পর্যবেক্ষণের জন্য টহলের সময় ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। এর সুফল আমরা ইতিমধ্যে পেতে শুরু করেছি।'

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, 'প্রধান কয়েকটি খালের মুখ কাঠের বেষ্টনী দিয়ে বন্ধ করার পর থেকে অভয়ারণ্য এলাকায় অপরাধের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এই উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।' তিনি সুন্দরবন সুরক্ষায় সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে