স্থানীয় নির্বাচনে জিততেই ইসিতে দলীয় লোক নিয়োগের অভিযোগ জামায়াতের

নিজস্ব প্রতিবেদন | প্রকাশ: ২৯ জুলাই, ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম
স্থানীয় নির্বাচনে জিততেই ইসিতে দলীয় লোক নিয়োগের অভিযোগ জামায়াতের
ছবি: সংগ্রহীত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করতেই নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, নির্বাচন কমিশন বর্তমানে রাজনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। কমিশনের কর্মকর্তাদের “বডি ল্যাঙ্গুয়েজ” দেখলেই সেই চাপ বোঝা যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে কমিশনের কাছে মোট ৯টি প্রস্তাব তুলে দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

জামায়াতের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ইসির বৈঠকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা, প্রশাসনে রাজনৈতিক নিয়োগ বাতিল এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। গোলাম পরওয়ার বলেন, ইসির চাওয়া চিঠির জবাবে তারা আগে সাতটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এবার আরও দুটি প্রস্তাব যুক্ত করে মোট নয়টি সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব সামসুল আলমের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তাঁর অভিযোগ, ওই কর্মকর্তা বিএনপির আসন পুনর্বিন্যাস কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ ধরনের একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ দেওয়া হলে কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে ফায়দা লুটতেই সরকারি দলের লোকজনকে এভাবে পদায়ন করা হচ্ছে। বিষয়টি ইসিকে জানানো হলে কমিশন নিজেদের অসহায়ত্বের কথা প্রকাশ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না রাখার সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেছে জামায়াত। গোলাম পরওয়ার বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রাজনীতি করা নিষিদ্ধ নয়। জাতীয় নির্বাচনে তারা অংশ নিতে পারলে স্থানীয় নির্বাচনে কেন পারবেন না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর মতে, এটি স্পষ্ট বৈষম্য।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পদে রাজনৈতিক নিয়োগ ও প্রশাসক বসানোর বিষয়েও আপত্তি জানায় জামায়াত। গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, এসব নিয়োগ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করেছে। প্রশাসক বা সংশ্লিষ্ট পদে থাকা ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নিলে ভোট নিরপেক্ষ হওয়ার সুযোগ কমে যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ ছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পদধারীরা যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করেছে জামায়াত। একই সঙ্গে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা যাতে স্থানীয় নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচার বা প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন, সেই সুপারিশও করা হয়েছে।

নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু ইসি নীরব থাকলেও সরকারের মন্ত্রীরা নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের রিটের রায়, গেজেট প্রকাশ ও শপথের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টিও সংবাদ ব্রিফিংয়ে তুলে ধরেন জামায়াতের এই নেতা। তাঁর প্রশ্ন, এত দ্রুত এসব প্রক্রিয়া কীভাবে শেষ হলো। তাঁর মতে, এর মধ্য দিয়েও নির্বাচন কমিশনের ওপর রাজনৈতিক চাপের বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপের অভিযোগ তুলে গোলাম পরওয়ার বলেন, “ইসির ওপর চাপ স্পষ্ট, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখলেই বোঝা যায়।”

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী আনোয়ারুল ইসলামকে নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি জামায়াতে নেই। তাঁর ভাষায়, “পদত্যাগের চেয়ে বহিষ্কারই বড় বিষয়।” তবে তাঁর সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, সে সিদ্ধান্ত সংসদ ও নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় যশোরে জামায়াত সমর্থিত এক এমপির বাড়িতে হামলার ঘটনাও তুলে ধরেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর অভিযোগ, সরকারি দলের লোকজন ওই এমপির অসুস্থ মেয়ে ও স্ত্রীর গায়ে হাত তুলেছে। এমন ঘটনা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বৈঠক শেষে জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে দেওয়া নয়টি প্রস্তাব বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশন কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে তারা প্রত্যাশা করছে। একই সঙ্গে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে