গোপালপুর-মৈনট ঘাট ইজারা প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ

চরভদ্রাসনে আবারও চলছে ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা পারাপার

এফএনএস (চরভদ্রাসন, ফরিদপুর) : | প্রকাশ: ২৯ জুলাই, ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
চরভদ্রাসনে আবারও চলছে ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা পারাপার

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা পদ্মা নদীর গোপালপুর ও মৈনট ঘাট দিয়ে প্রতিদিন ঢাকাগামী হাজার হাজার যাত্রী চরম ঝুঁকির মধ্যে দিয়ে পদ্মা নদী পারাপার হচ্ছেন। এ নৌরুটে বেশীরভাগ যাত্রীরা স্পিডবোটে পদ্মা নদী পার হয়ে রাজধানী ঢাকা যাতায়াত করে থাকেন। সম্প্রতি কোনো স্পিডবোট যাত্রীকে লাইফ জ্যাকেট পড়ানো হচ্ছে না। অবশ্য, গত কয়েক বছর ইউএনও অফিসের নিয়ন্ত্রনে ঘাটটি সরকারি খাস কালেকশন চলাকালে স্পিডবোট যাত্রীদের নিরাপত্তায় লাইফ জ্যাকেট পড়া বাধ্য বাধকতা ছিল। কিন্ত চলতি বছরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা মিলে ঘাটটি ইজারা নেওয়ার পর লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা নদী পারাপার হচ্ছেন যাত্রীরা।

অবশ্য, বুধবার উক্ত ঘাট ইজারাদার বাবুল শিকদারকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, “ ঘাটের প্রত্যেকটি স্পিডবোটে লাইফ জ্যাকেট রাখা আছে। যাত্রীরা লাইফ জ্যাকেট চাইয়্যা না পড়লে আমরা কি করবো”। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া মমতাজের সাথে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও বদলিজনিত কারনে তিনি মুঠোফোন রিসিপ করেন নাই।  

সরেজমিনে গোপালপুর ও মৈনট ঘাটটি ঘুরে জানা যায়, শ্রাবনের উত্তাল তরঙ্গ, বৈরী আবহাওয়া ও প্রবল বৃষ্টিপাতের মধ্যে লাইফ জ্যাকেট ছাড়া খোলা ষ্পিডবোটে পদ্মা নদী পারাপার হচ্ছেন যাত্রীরা। গাদাগাদা করে বসিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই পদ্মার কড়াল স্্েরাত ও উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে পাড়ি জমাচ্ছে যাত্রীরা। প্রতিটি বড় ষ্পিডবোটে যাত্রী ধারন ক্ষমতা ১৪ জন থাকলেও বহন করা হচ্ছে ১৯ জন যাত্রী। যাত্রী প্রতি আগে ভাড়া ছিল ১৫০ টাকা সম্প্রতি নেওয়া হচ্ছে ১৮০ টাকা। একই ঘাট দিয়ে আরও বেশী ঝুঁকির মধ্যে লঞ্চে করে পদ্মা নদী পারাপার হচ্ছেন যাত্রীরা। পর্যাপ্ত বয়া ছাড়া আনফিট লঞ্চে অর্ধঘন্টা পর পর পারাপার হচ্ছেন শত শত যাত্রী। ঘাট কর্তৃপক্ষের অনিহা ও উদাসিনতার কারনে পদ্মা নদীর উত্তাল তরঙ্গের মধ্যে পর্যাপ্ত বয়া ছাড়াই যাত্রীরা পারপার হচ্ছেন পদ্মা নদী । সক মিলিয়ে উক্ত নৌরুটের স্পিডবোট ও লঞ্চের যাত্রীরা জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা নদী পারাপার হলেও দেখার কেউ নেই বলে জানা গেছে। এ ঘাটের অনিয়ম সম্পর্কে গোপালপুর ও মৈনট আন্তঃজেলা ঘাটের সাবেক ইজারাদার ও উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি মোঃ শাহজাহান শিকদার জানান, “২০২২ সালে আমরা ঘাটটি ইজারা নিয়েছিলাম ৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা রাজস্ব দিয়ে। সেই ঘাট স্থানীয় কিছু নেতাকর্মীরা ঢাকার কমিশনার অফিসের সাথে গোপনে আতাত করে মাত্র ৭০ লাখ টাকা দিয়ে ইজারা এনে লুটপাট করে খাচ্ছে। তিনি জানান, দেশে পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এ ঘাটে যাত্রী চাপ একটু কমে গিয়েছিল এখন আবার সরগরম হয়েছে। ফলে উক্ত ঘাটে প্রায় তিন বছর ইউএনও অফিসের মাধ্যমে খাস কালেকশন করা হয়েছে। কিন্তু ২০২৫ সালে ঘাটের সর্বশেষ ও সর্বোচ্চ দরদাতা ছিলেন তিনি। তারপরও ২০২৬ সালে অর্থাৎ চলতি বছরে ঢাকার কমিশনার অফিস আমাদের কাউকে না জানিয়ে  নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক মাস আগে স্থানীয় কিছু নেতৃবৃন্দর সাথে গোপনে আতাত করে রহস্যজনক কারনে মাত্র ৭০  লাখ টাকায় ঘাটটি ইজারা দিয়েছেন। ঘাট ইজারা প্রদানের আগে কোনো প্রচার-প্রচারনা চালানো হয় নাই। তাই এ বছরে উপজেলার গোপালপুর ও মৈনট ঘাটটি ইজারা প্রদান পদ্ধতি মোটেও বৈধ হয়নি বলে তিনি দাবী তোলেন”।  বুধবার উক্ত ঘাটের এক যাত্রী আরমান শেখ (৪৫) জানায়, “ষ্পীড বোটে উঠার পর আমরা লাইফ জ্যাকেটের জন্য ড্রাইভারকে বার বার বলেছি কিন্ত ড্রাইভার আমদের কথার কোনো গুরুত্ব দেয় নাই”। আরেক স্পিডবোট ড্রাইভার হারুন মোল্যাকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায় “ লাইফ জ্যাকেট আমাদের স্পিডবোটের ড্রয়ারে রাখা আছে। প্রয়োজন হলে বের করবো”।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে