ক্ষেতলালে নলকূপের ট্রান্সফরমার নামিয়ে তামার যন্ত্রাংশ লুট

এফএনএস (মোঃ হাসান আলী মন্ডল; ক্ষেতলাল, জয়পুর হাট) : | প্রকাশ: ২৯ জুলাই, ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
ক্ষেতলালে নলকূপের ট্রান্সফরমার নামিয়ে তামার যন্ত্রাংশ লুট

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ফোঁপরা (সুজাপুর) মৌজায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) একটি গভীর নলকূপের তিনটি ১০ কেভিএ বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের ভেতরের মূল্যবান তামার যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে তিনটি ট্রান্সফরমার নিচে নামিয়ে ভেতরের মূল্যবান তামার যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গভীর নলকূপ পরিচালনা কমিটির প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে চলমান আমন মৌসুমে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৪ বছর আগে এলাকার কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে বিএমডিএর উদ্যোগে এই গভীর নলকূপটি স্থাপন করা হয়। তবে পার্শ্ববর্তী ডিপ টিউবওয়েলের প্রভাবশালী মালিকদের হস্তক্ষেপ এবং স্কিম বা সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতার অজুহাতে দীর্ঘদিন নলকূপটি চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে সরকারি এই সেচ প্রকল্পটি প্রায় ২৪ বছর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। এই সুযোগে স্থানীয় কৃষকদের বাধ্য হয়ে পার্শ্ববর্তী ডিপ টিউবওয়েল মালিকদের সেচ্ছাচারিতা সহ্য করে এবং চড়া দামে জমিতে সেচ দিতে হতো। ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে গত বছর স্থানীয় কৃষকদের উদ্যোগে একটি নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে উপজেলা সেচ কমিটি ও বিএমডিএ কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহযোগিতায় নলকূপটিতে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে চালুর ব্যবস্থা করা হলে কৃষকদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়। কিন্তু চালুর মাত্র এক বছরের মাথায় এই চুরির ঘটনায় কৃষকদের সেই আশায় বড় ধরনের ধাক্কা লাগলো।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, এলাকায় চুরির ঘটনা বাড়লেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় দুর্বৃত্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের দাবি, পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে সরকারি এই সেচ প্রকল্পটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি চুরি হওয়া যন্ত্রাংশ উদ্ধার বা নতুন ট্রান্সফরমার বসিয়ে সেচ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার দাবি জানান তারা। গভীর নলকূপ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলী হাসান মিলন বলেন, এটি শুধু ট্রান্সফরমার চুরি নয়, কৃষকদের জীবিকা ও সেচ ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত। আমরা দ্রুত তদন্ত, ট্রান্সফরমার উদ্ধার এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ক্ষেতলাল থানায় মামলা/অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এ বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা বিএমডিএ কর্মকর্তা মোস্তাক আহম্মদ বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমি জেনেছি। পরিচালনা কমিটির সদস্যদের অফিসে ডাকা হয়েছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে