রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত রাকসু ও শিবির নেতাদের গ্রেপ্তার ও ছাত্রত্ব বাতিলসহ ছয় দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছেন একদল শিক্ষার্থী।
বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব্যানারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতিসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো-কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের গ্রেপ্তার ও ছাত্রত্ব বাতিল, রাকসু প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট পদ থেকে অপসারণ ও বহিষ্কার, প্রক্টর অফিসে শিক্ষার্থীকে মারধরের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, নারী শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি রোধে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে সব ধরনের সহিংসতা, সন্ত্রাস ও ভয়ভীতি থেকে মুক্ত রাখতে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
মানববন্ধনে ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘রাজাকার ও আলবদরের দোসররাই গতকাল ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। ছাত্রশিবির একটি অনৈতিক সংগঠন। লাইব্রেরির মতো নিরাপদ স্থানে শিবিরের কর্মীরা শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে আহত করেছে। লাইব্রেরিতে হামলার উদ্দেশ্যই ছিল ৭১-এর জামায়াত-শিবিরের অপকর্মের সংরক্ষিত তথ্য মুছে ফেলা। তারা শুধু লাইব্রেরি নয়, পুরো ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট করেছে।’
সাংবাদিকদের উদ্দেশে রাকসু ভিপির দেওয়া হুমকির সমালোচনা করে ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা শুধু পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন না, তারা এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী। তারা সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ করে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করেন। কোনো সংবাদ কারও পছন্দ না হলেই সাংবাদিকদের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা ব্যক্তিগত আক্রমণ করা গ্রহণযোগ্য নয়।’
রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের উদ্দেশে ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিঠু বলেন, ‘আপনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলেন। কিন্তু মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কি শুধু আপনাদের জন্য? আর অন্যরা প্রতিবাদ করতে পারবে না—এমন ধারণা গণতান্ত্রিক হতে পারে না।’
মানববন্ধনকারীরা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সাম্প্রতিক ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও হল পর্যায়ের বিভিন্ন নেতা কর্মী উপস্থিত ছিলেন।