তিন মাসে সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেফতার ১ হাজার ৬২৬ জন

এফএনএস (মমিনুল ইসলাম রিপন; রংপুর) :
| আপডেট: ২৯ জুলাই, ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম | প্রকাশ: ২৯ জুলাই, ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
তিন মাসে সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেফতার ১ হাজার ৬২৬ জন

দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাস পূর্তি উপলক্ষে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান এবং চোরাই মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অর্জনের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিক সাঁড়াশি অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং জনগণের সহযোগিতার ফলে মহানগর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুসংহত হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল ৪টায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি গত তিন মাসে আরপিএমপির বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জন বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত তিন মাসে বিভিন্ন অভিযানে মোট ১ হাজার ৬২৬ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ওয়ারেন্টভুক্ত ৩১৬ জন, মাদক কারবারি ২৮২ জন, চোর ৫৩ জন, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার ৩২ জন, হত্যা মামলার ৫ জন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ১২ জন সদস্য এবং অন্যান্য মামলার ৯২৬ জন আসামি রয়েছেন।

মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে ২ হাজার ৬৮১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪৭ দশমিক ২ গ্রাম হেরোইন, ২০ কেজি ৪ গ্রাম গাঁজা, ১৫৮ বোতল ফেনসিডিল/এসকাফ, ৩৩ দশমিক ৫ লিটার চোলাই মদ, ৪৮ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং ২৬টি মরফিন ইনজেকশন। চুরি ও ছিনতাই প্রতিরোধে পরিচালিত অভিযানে ১৬ মণ চোরাই তামার তারসহ একটি ট্রাক, ৫টি চোরাই অটোরিকশা এবং ৮টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহৃত ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে জুয়ার তাস, মোবাইল ফোন, স্ট্যাম্প, চেকসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, অপরাধ দমন, মাদক নির্মূল এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরপিএমপির ধারাবাহিক অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। মহানগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেশাদারিত্ব, জবাবদিহিতা এবং জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। তিনি অপরাধ প্রতিরোধে নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পুলিশের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে এবং একটি নিরাপদ মহানগর গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে