কালাইয়ে ওএমএসের আটা আত্মসাতের অভিযোগ, ৩ কর্মকর্তা বরখাস্ত

এফএনএস (মোঃ হাসান আলী মন্ডল; ক্ষেতলাল, জয়পুর হাট) :
| আপডেট: ৩১ জুলাই, ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম | প্রকাশ: ৩১ জুলাই, ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম
কালাইয়ে ওএমএসের আটা আত্মসাতের অভিযোগ, ৩ কর্মকর্তা বরখাস্ত

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ন্যায্যমূল্যে বিক্রির জন্য বরাদ্দ দেওয়া ওএমএসের (ওপেন মার্কেট সেল) আটা আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা, উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ও সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের কালাই উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আটা বরাদ্দে অনিয়মসংক্রান্ত একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন-কালাই উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদ, উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মাহমুদুন্নবী সরকার এবং সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক আব্দুল মোমিন। গত বৃহস্পতিবার তাঁদের কালাই উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার একটি গোপনে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার পরপরই তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয় এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত কার্যক্রম চলাকালেই অভিযুক্ত তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসে বিশেষ ওএমএস কার্যক্রমের আওতায় খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর নির্বাচনী এলাকা কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর উপজেলায় ন্যায্যমূল্যে চাল ও আটা বিক্রি শুরু হয়। প্রতিটি উপজেলায় প্রতিদিন দুই টন করে চাল ও দুই টন করে আটা বরাদ্দ দেওয়া হয়। একজন সুবিধাভোগী ২৭০ টাকায় পাঁচ কেজি চাল ও পাঁচ কেজি আটা কেনার সুযোগ পান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন দুই টন আটা বরাদ্দ থাকলেও বিক্রয়কেন্দ্রে ৪০ বস্তার পরিবর্তে মাত্র ২০ বস্তা আটা রাখা হতো। ফলে অনেক ক্রেতা চাল পেলেও আটা থেকে বঞ্চিত হন। অবশিষ্ট ২০ বস্তা আটার কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

এ বিষয়ে কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে গোপনে ধারণ করা ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “এত কথা কওয়া লাগবে ক্যা, কয় টন বরাদ্দ, এত দিন পর আচ্ছে। সবাই মিলেমিশে খাই। এখানে তেমন কিছু নাই। যা হবে ভাই-ব্রাদার মানুষ, সবাই মিলেমিশে খামু। আর আপনারা যদি কন বন্ধ করে দিতে, কালকে থেকে বন্ধ করে দিমু।” ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর উপজেলার বিশেষ ওএমএস কার্যক্রমের আটা জয়পুরহাট শহরের সাদিয়া ফ্লাওয়ার মিলস থেকে সরবরাহ করা হয়। সপ্তাহে পাঁচ দিন (রোববার থেকে বৃহস্পতিবার) বিক্রির আগের দিন মিল কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আটা বিক্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়। সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক আব্দুল মোমিন দুই টন (৪০ বস্তা) আটা বুঝে নিয়ে প্রাপ্তিস্বীকারপত্রে স্বাক্ষর করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, গত রোববার ৪০ বস্তা আটা গ্রহণ করা হলেও সোমবার বিক্রয়কেন্দ্রে মাত্র ২০ বস্তা আটা রাখা হয়। সেদিন উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মাহমুদুন্নবী সরকারের তত্ত্বাবধানে চাল ও আটা বিতরণ করা হয়। অবশিষ্ট ২০ বস্তা আটা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, বিশেষ ওএমএস কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই একইভাবে কম আটা বিতরণ করা হচ্ছিল।

সাদিয়া ফ্লাওয়ার মিলসের ব্যবস্থাপক জহুরুল ইসলাম বলেন, তিনটি উপজেলায় বরাদ্দ অনুযায়ী সপ্তাহে পাঁচ দিনই দুই টন (৪০ বস্তা) করে আটা সরবরাহ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কালাই উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।জয়পুরহাটের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাকিল আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কালাই উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। অভিযুক্ত তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং কালাই উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে